ওঙ্কার ডেস্ক: চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর রবিবার ভবানীভবনে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠকে উপস্থিত রয়েছেন মুখ্যসচিব মনোজ অগ্রবাল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধনাথ গুপ্ত-সহ একাধিক আধিকারিক। শনিবার রাতের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যুর পর পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। এলাকার বহু বাসিন্দার অভিযোগ, দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েনি। ক্ষুব্ধ স্থানীয়দের একাংশের এই দাবি ঘিরে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে রবিবার দুপুরে ভবানীভবনের বৈঠক বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলেমনে করা হচ্ছে।
শনিবার চোরবাগানে ঠিক কী কারণে পদপিষ্ট হওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা এখনও স্পষ্ট নয়। একাংশের দাবি, বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচতে দর্শনার্থীরা মণ্ডপের ভিতরে আশ্রয় নেওয়ার চেষ্টা করছিলেন। সেই সময় ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়। তার জেরেই বিপর্যয় ঘটে। দুর্ঘটনার পর প্রত্যক্ষদর্শীদের একাংশ অভিযোগ করেন, প্রয়োজনের সময় পুলিশ ও নিরাপত্তাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছননি। তাঁদের অভিযোগ, সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যেত হয়তো। শনিবার রাতেই মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জানান, দুর্ঘটনার জন্য কারও গাফিলতি প্রমাণিত হলে তাঁকে রেয়াত করা হবে না। ইতিমধ্যে তদন্তকারীরা ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন। ফুটেজে কারও দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ মিললে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সূত্রের খবর, রবিবারের বৈঠকে দুর্ঘটনার কারণ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হতে পারে। সিসিটিভি ফুটেজে কী উঠে এসেছে, ঘটনার সময় কর্তব্যরত পুলিশকর্মীরা কী করছিলেন এবং বেসরকারি নিরাপত্তাকর্মীদের ভূমিকা কী ছিল, তা নিয়েও পর্যালোচনা হতে পারে। ইতিমধ্যে চোরবাগানের পুজো উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ শুরু করেছে পুলিশ। গত রাত থেকে ১৪ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পাশাপাশি অনিচ্ছাকৃত খুনের অভিযোগে স্বতঃপ্রণোদিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। রবিবার সকালে জানা যায়, পুজো কমিটির দুই পদাধিকারী-সহ মোট সাত জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন কমিটির সম্পাদক রাজকুমার সেওদা ওরফে রাজা এবং সহসভাপতি শান্তনু দুবে।