ওঙ্কার ডেস্ক: ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) প্রক্রিয়ায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সোমবার দিল্লিতে জাতীয় নির্বাচন কমিশনের দফতর ঘেরাওয়ের কর্মসূচি নিয়েছে বিরোধী দলগুলি। অভিযোগ, এসআইআর-এর কারণে বিহারের ভোটার তালিকা থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৬৫ লক্ষ নাম বাদ পড়েছে। চলতি বছরের শেষে বিহারে ভোট এবং তার পরের বছর পশ্চিমবঙ্গ, কেরল, অসম ও তামিলনাড়ুসহ একাধিক রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হওয়ার কথা। বিরোধীদের দাবি, এই প্রক্রিয়া বিজেপির স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে এবং এর মাধ্যমে “ভোট চুরি” করা হচ্ছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী পরিসংখ্যান দিয়ে এই অভিযোগ তুললেও, নির্বাচন কমিশন তা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
এসআইআর নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলাও হয়েছে। যদিও শীর্ষ আদালত আপাতত এই প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেনি, তবে কমিশনকে কিছু পরামর্শ দিয়েছে। মামলার শুনানি এখনও স্থগিত রয়েছে। এই আবহেই সোমবার বিরোধী শিবির কমিশন অভিযান শুরু করে। সকাল ১১টার মধ্যে লোকসভা ও রাজ্যসভা অচল করে দেওয়ার প্রস্তুতি নেয় বিরোধীরা। সাড়ে ১১টায় নতুন সংসদ ভবনের মকরদ্বারের সামনে প্রায় ২০০ বিরোধী সাংসদ জমায়েত হন। সেখান থেকে মিছিল করে নির্বাচন সদনে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও, দিল্লি পুলিশের অনুমতি মিলবে কি না, তা নিয়ে সংশয় ছিল। তৃণমূলের এক সাংসদ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, মাঝপথে পুলিশ সাংসদদের আটক করতে পারে।
বিক্ষোভে ভাষার বৈচিত্র প্রদর্শনের পরিকল্পনাও রয়েছে বিরোধী শিবিরে। প্ল্যাকার্ড থাকবে বাংলা, ইংরেজি, তামিল, মরাঠি, মলয়ালম ও হিন্দি ভাষায়। পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল কংগ্রেস তৈরি করছে বাংলায় লেখা প্ল্যাকার্ড, কংগ্রেসের দায়িত্ব ইংরেজি ও মলয়ালম ভাষার প্ল্যাকার্ড, তামিলনাড়ুর ডিএমকে তৈরি করছে তামিল ভাষায় প্ল্যাকার্ড, হিন্দির দায়িত্ব সমাজবাদী পার্টি এবং মরাঠি ভাষার দায়িত্ব শিবসেনা গোষ্ঠীর হাতে।
রবিবার দিল্লি পুলিশ জানায়, সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের দফতর পর্যন্ত মিছিলের জন্য বিরোধী জোট ‘ইন্ডিয়া’-র পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক অনুমতি চাওয়া হয়নি। এ প্রসঙ্গে সমাজবাদী পার্টির সাংসদ রামগোপাল যাদব বলেন, “দিল্লির রাস্তায় হাঁটার জন্য অনুমতি নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সাংসদদের রাস্তায় নামা যদি ঝুঁকির কারণ হয়, তবে প্রশাসনিক ব্যবস্থাই অর্থহীন”।
সোমবার অধিবেশন শুরু হতেই এসআইআর নিয়ে তুমুল হইচই শুরু হয় সংসদের দুই কক্ষে। বিক্ষোভের জেরে লোকসভা ও রাজ্যসভার কার্যক্রম দুপুর ২টো পর্যন্ত মুলতুবি হয়। এরপর বিরোধী সাংসদরা নতুন সংসদ ভবনের সামনে জড়ো হয়ে কমিশন অভিযান শুরু করেন। মিছিলে কংগ্রেস, তৃণমূল, শিবসেনা (উদ্ধব), সমাজবাদী পার্টি ও এনসিপি (শরদ) সহ বিরোধী জোটের বিভিন্ন দলের নেতারা অংশ নেন।
