ওঙ্কার ডেস্ক : বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে “ভোট চুরির” অভিযোগ তুলে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী আগস্টেই শুরু করেছিলেন ভোটার অধিকার যাত্রা। কিন্তু ভোটের ফলাফলে তার কোনো ম্প্রভাব পড়েছে বলে মনে হল না। ফলে এটা শুধুমাত্র কংগ্রেসের অক্ষে হতাশজনক নয়, রাহুল গান্ধীর জন্যও একটি বড় ধাক্কা। এ বছরের শুরুতেই রাজ্য জুড়ে ভোটারদের বোঝাতে গিয়েছিলেন যে বিজেপি ভোট চুরি করছে। আগের দুটি পর্যায়ে এই কর্মসূচিতে উৎসাহিত হয়ে আগস্ট মাসে বিহারে বের করেন ভোটার অধিকার যাত্রা। ২৫টি জেলা এবং ১১০টি বিধানসভা নির্বাচনী এলাকা অতিক্রম করে, প্রায় ১,৩০০ কিলোমিটার জুড়ে যাত্রা করেছিলে রাহুল। কিন্তু এই রুটের একটিও নির্বাচনী এলাকা রাহুলের দিকে ঝুঁকে পড়ছে বলে মনে হচ্ছে না। প্রবণতা যেদিকে ঢুলেছে তাতে কংগ্রেস এখন ৬১টি আসনের মধ্যে মাত্র চারটি আসনে এগিয়ে। তা হল– বাল্মীকি নগর, কিষাণগঞ্জ, মণিহারি এবং বেগুসরাই। কিন্তু রাহুলের তৎপরতায় উৎসাহিত হয়েছিল কংগ্রেস। আশা করেছিল, এর ফলে ঘুরে দাঁড়ানোর শক্তি পাবে কংগ্রেস। কিন্তু সেই উৎসাহে জল ডেলে দিল ভোটের ফলাফল। বোঝা গেল রাহুলের ভোটাধিকার কর্মসূচিতে সেভাবে কান দেয়নি বিহারের ভোটাররা।
কংগ্রেস বিশ্বাস করেছিল যে রাহুলের পূর্ববর্তী যাত্রাগুলি থেকে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন এবং ২০২৩ সালের তেলেঙ্গানা নির্বাচনে তাদের ভালো ফলাফল অর্জনে সহায়তা করেছিল। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে রাহুল যে দুটি সর্বভারতীয় ‘ভারত জোড়ো’ যাত্রা করেছিলেন, তার পথে কংগ্রেস ৪১টি আসন জিতেছিল। তেলেঙ্গানায়, তারা নির্বাচনে জয়লাভ করে এবং সরকার গঠন করে। কিন্তু বিহারের সেই যাদু চললো না। বিজেপি এবং জেডি(ইউ) উভয়েই এই লড়াইতে বেশিরভাগ আসনে জয়লাভ করেছে বা এগিয়ে আছে। দেখা যাচ্ছে, বিজেপি এখনও পর্যন্ত ৯২টি এবং জেডি(ইউ) ৮৩টি আসনে এগিয়ে। এখনও পর্যন্ত ঘোষিত ফলাফল ৫০, যার মধ্যে বিজেপি- ২৬, জেডি(ইউ)- ১২, আরজেডি-৫, কংগ্রেস -১ মিন-৩, হামস-১, লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস-) ২টো আসনে জয়ী হয়েছে। এমনকি তাদের মিত্ররাও চিরাগ পাসওয়ানের লোক জনশক্তি পার্টি (রাম বিলাস) তাদের প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ২৮টির মধ্যে ২২টিতে এগিয়ে। উপেন্দ্র কুশওয়াহার আরএলএম ৬টি আসনের মধ্যে ৩টিতে এগিয়ে, যেখানে জিতন রাম মাঝির এইচএএম ৬টির মধ্যে ৫টিতে এগিয়ে।
বিহারের ফলাফল ইঙ্গিত দেয় যে বিজেপি এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে রাহুল গান্ধীর “ভোট চুরির” অভিযোগ ভোটাররা নেয়নি। কংগ্রেসের মতে, বিহার যাত্রার লক্ষ্য ছিল ভোটার তালিকার SIR (বিশেষ নিবিড় সংশোধন) এর মাধ্যমে “বিজেপির বিহারের লক্ষ লক্ষ ভোটারকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করার চক্রান্ত” – এই নীতিগত যাত্রা করা যাতে প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বর জালিয়াতি এবং কারসাজির মাধ্যমে চুরি না হয়। কংগ্রেস বলেছিল, সিনিয়র নেতারা এটিকে “বড় পরিবর্তনকারী” হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন। রাহুল গান্ধী বলেছিলেন, “এটি সবচেয়ে প্রতীকী গণতান্ত্রিক অধিকার – ‘এক ব্যক্তি, এক ভোট’ রক্ষার লড়াই।” সেই সময় নির্বাচন কমিশন অভিযোগগুলিকে ভুল বলে জানিয়েছিল। এখন বিহারের ভোটাররাও রাহুলের এই নীতির আওয়াজে কান দিয়েছে বলে মনে হচ্ছে না।

বিহারে কংগ্রেসের পরাজয়ের মূল্যায়ন এখনও না হলেও, প্রতিদ্বন্দ্বীর পক্ষে যে কারণগুলি কাজ করেছে তা হল মহাজোটবন্ধনের নির্বাচনী কর্তাদের মধ্যে ঐক্যের অভাব। যার মধ্যে অন্যতম হল জোটের মুখ্যমন্ত্রী পদের মুখ হিসেবে আরজেডির তেজস্বী যাদবকে সমর্থন করতে কংগ্রেসের দ্বিধা। এছাড়া, যৌথ কৌশলের অভাবও ছিল উল্লেখযোগ্য, যা ভোটারদের কাছে মহাজোটের বার্তা পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হয়েছিল। রাহুলের যাত্রা তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নতুন শক্তি জাগাতে সক্ষম হলেও, তা ধরে রাখতে পারেনি। শরিকদের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই এবং গোষ্ঠীদ্বন্দ্বও বিভ্রান্তির সৃষ্টি করেছে যার ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কংগ্রেস এবং আরজেডি উভয়ই।
