ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে হিন্দু সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের অভিযোগকে ঘিরে ভারতের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ময়মনসিংহে হিন্দু যুবক দীপু চন্দ্র দাসের মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনার পর এই ইস্যু ঘিরে কংগ্রেস নেতাদের প্রতিক্রিয়া সামনে এসেছে। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কংগ্রেসের একাধিক শীর্ষ নেতা প্রকাশ্যে উদ্বেগ প্রকাশ করলেও বক্তব্যের ভিন্নতা নিয়ে দলীয় অন্দরেও আলোচনা তীব্র হয়েছে।
কংগ্রেস নেতা রশিদ আলভি বাঙলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর অত্যাচারের ঘটনাকে নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, এই ধরনের বর্বর ঘটনা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং বাঙলাদেশ সরকারের উচিত অবিলম্বে দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া। তবে একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, শুধুমাত্র ভারতের পক্ষ থেকে কড়া বিবৃতি দিলেই পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। তাঁর বক্তব্যে ভারত ও বাংলাদেশন দু’দেশেই সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতনের প্রসঙ্গ উঠে আসায় রাজনৈতিক বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়।
এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস নেত্রী আলকা লাম্বা স্পষ্টভাবে বলেন, সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা দেওয়া যে কোনও রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। বাঙলাদেশে হিন্দুদের উপর হামলার ঘটনায় তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন এবং জানান, ধর্ম বা পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনও নাগরিকের উপর আক্রমণ সভ্য সমাজে অগ্রহণযোগ্য। তাঁর মতে, মানবাধিকার রক্ষার প্রশ্নে কোনও দ্বিধা থাকা উচিত নয়। অন্যদিকে কংগ্রেস নেতা সলমন খুরশিদ তুলনামূলক মন্তব্য এড়িয়ে গিয়ে বলেন, যে দেশেই হোক না কেন, সংখ্যালঘুদের উপর অত্যাচার নিন্দনীয়। এই ধরনের ঘটনা আন্তর্জাতিক স্তরেও প্রশ্ন তোলে এবং প্রতিবেশী দেশগুলির মধ্যে সম্পর্কের উপর প্রভাব ফেলতে পারে বলে তিনি ইঙ্গিত দেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি বাংলাদেশের ময়মনসিংহ এলাকায় দীপু চন্দ্র দাস নামে এক হিন্দু যুবকের মৃত্যু ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। অভিযোগ, গুজব ও উত্তেজনার জেরে তাঁকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয় এবং পরে তাঁর দেহ পুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। আন্তর্জাতিক মহলেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
এই পরিস্থিতিতে ভারতের রাজনৈতিক মহলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি কূটনৈতিক ও মানবিকন দু’দিক থেকেই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। কংগ্রেস নেতাদের বিভিন্ন মন্তব্য একদিকে যেমন ঘটনার নিন্দা করছে, তেমনই অন্যদিকে রাজনৈতিক ব্যাখ্যা ও অবস্থানগত পার্থক্যকেও সামনে আনছে।
