কোষ্ঠকাঠিন্য একটি পরিচিত হজমজনিত সমস্যা। সাধারণত মল শক্ত ও শুকনো হয়ে যাওয়া, মলত্যাগে অতিরিক্ত চাপ দেওয়া কিংবা নিয়মিত মলত্যাগ না হওয়াকে কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়। মাঝে মাঝে এই সমস্যা হওয়া স্বাভাবিক হলেও দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে এর কারণ খুঁজে দেখা জরুরি।
কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ
কোষ্ঠকাঠিন্যের অন্যতম কারণ হলো খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশের অভাব। শাকসবজি, ফলমূল, ডাল ও সম্পূর্ণ শস্য কম খেলে মল শক্ত হয়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত জল না খাওয়া, দীর্ঘ সময় বসে থাকা বা শারীরিক পরিশ্রম কম করাও কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ হতে পারে। মলত্যাগের বেগ চেপে রাখার অভ্যাস, দৈনন্দিন রুটিনের পরিবর্তন, মানসিক চাপ এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াতেও এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার সঙ্গেও কোষ্ঠকাঠিন্য সম্পর্কিত থাকতে পারে।
সাধারণ লক্ষণ
কোষ্ঠকাঠিন্যের ক্ষেত্রে সাধারণত সপ্তাহে স্বাভাবিকের তুলনায় কমবার মলত্যাগ, শক্ত বা শুকনো মল, মলত্যাগের সময় বেশি চাপ দিতে হওয়া এবং পুরোপুরি মলত্যাগ হয়নি এমন অনুভূতি দেখা যায়। পাশাপাশি পেট ফাঁপা, পেটে অস্বস্তি বা ব্যথা এবং ক্ষুধামন্দাও হতে পারে।
উপশমের উপায়
কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতে প্রতিদিন পর্যাপ্ত জল পান করা এবং ধীরে ধীরে খাদ্যতালিকায় আঁশযুক্ত খাবার বাড়ানো উপকারী। শাকসবজি, ফল, ডাল, ওটস এবং অন্যান্য সম্পূর্ণ শস্য নিয়মিত খেতে পারেন। প্রতিদিন হাঁটা বা অন্য কোনো নিয়মিত শারীরিক কার্যকলাপের অভ্যাস করুন। মলত্যাগের বেগ এলে তা চেপে না রেখে নির্দিষ্ট সময়ে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলুন।
তবে দীর্ঘদিন কোষ্ঠকাঠিন্য থাকলে বা ঘরোয়া যত্নে সমস্যা না কমলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। মলের সঙ্গে রক্ত, তীব্র পেটব্যথা, বারবার বমি, অস্বাভাবিক ওজন কমে যাওয়া বা হঠাৎ দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সুষম খাবার, পর্যাপ্ত জল, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর মলত্যাগের অভ্যাস—এই কয়েকটি বিষয় মেনে চললে কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।