ওঙ্কার ডেস্ক: সরকারের সরবরাহ করা বিনামূল্যের কাশির সিরাপ খেয়ে মৃত্যু হল পাঁচ বছরের এক শিশুর। ঘটনাটি ঘটেছে রাজস্থানের সিকার জেলার খোরি ব্রাহ্মণন গ্রামে। কোলের সন্তানকে হারিয়ে শোকে পাথর মৃত শিশুর পরিবার।
সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর, মৃত শিশুর নাম নিতীশ। বেশ কিছু দিন ধরে অসুস্থ ছিল সে। মূলত সর্দি-কাশিতে ভুগছিল নাবালক। ছেলের সুস্থতার জন্য তার মা চিরানা সিএইচসিতে বিনামূল্যে পাওয়া ওষুধ নিয়ে আসেন। কিন্তু কাশির ওষুধ খাওয়ার পর নিতীশের অবস্থা আরও খারাপ হয়। স্থানীয় হাসপাতালে তাকে নিয়ে যাওয়া হলে মৃত বলে ঘোষণা করেন চিকিৎসক। পরে শিশুটির পরিবার দেহ ময়নাতদন্ত করতে অস্বীকার করে। লিখিত ভাবে পুলিশকে জানিয়ে দেহ নিয়ে যায়। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, কাশির সিরাপ খেয়ে এই প্রথম অঘটন ঘটেনি। এর আগে এই কাশির সিরাপ খেয়ে অজিতগড় এলাকায় দুই শিশু অসুস্থ হয়ে পড়ে।
এএসআই রোহিতাস কুমার জাঙ্গিদ জানান, রবিবার সন্ধ্যায় মুকেশ শর্মার ছেলে নিতীশকে চিরানা সিএইচসি থেকে কাশির ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। রাতে তার অবস্থা আরও খারাপ হয় এবং তাকে জল দেওয়া হয়। সোমবার সকালে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সময় তার মৃত্যু হয়। চিকিৎসক রঞ্জিত বেন্দা বলেন, পরিবার শিশুটিকে অচৈতন্য অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে আসে। সেখানে নিয়ে যাওয়ার পর পরীক্ষা নিরীক্ষার পর তাকে মৃত বলে ঘোষণা করা হয়।
জানা গিয়েছে, শিশুটির বাবা ঝাড়খণ্ডে একটি হোটেল চালান। ঘটনার খবর পেয়ে তিনি তার গ্রামে ফিরে আসেন। উল্লেখ্য, এই একই সিরাপের কারণে সম্প্রতি ভরতপুর জেলার বায়ানায় তিন বছর বয়সী এক শিশু, সিএইচসি-র দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং দুই অ্যাম্বুলেন্স চালকের অবস্থারও অবনতি ঘটে। সিরাপ খাওয়ার পর শিশুটি অসুস্থ হয়ে যাওয়ার পর তার প্রতিক্রিয়া পরীক্ষা করার জন্য সিএইচসি-র দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা এবং দুই অ্যাম্বুলেন্স চালক ওষুধটি খান। তাঁরাও অসুস্থ হয়ে পড়লে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এই ঘটনার পর, ভরতপুর জেলা জুড়ে একই ব্যাচের ওষুধ বিতরণের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
