ওঙ্কার ডেস্ক: মধ্যপ্রদেশের কাশির সিরাপ সেবনের জেরে মৃত্যু হয়েছে ১১ জন শিশুর। তারপরই নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। তদন্তে উঠে আসে এক কাফ সিরাপ কোল্ডরিফ এর নাম। তদন্তের গতি এগোতেই পুলিশ জানতে পারে যে সমস্ত শিশু প্রাণ হারিয়েছেন তাঁদের প্রত্যেকেই ঐ সিরাপ দিয়েছিলেন প্রবীন সোনি নামের এক ডাক্তার। ৪ অক্টোবর শনিবার গভীররাতে সেই ডাক্তারকে গ্রেফতার করে মধ্যপ্রদেশ পুলিশ। পাশাপাশি কোল্ডরিফ প্রস্তুতকারক সংস্থা স্রেসুন ফার্মাসিউটিক্যালসের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে তাদের সমস্ত ওষুধ প্রস্তুতি্ এবং বিতরন।
মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান ও মহারাষ্ট্রে একাধিক শিশু মৃত্যুর পেছনে ডাই-ইথাইল গ্লাইকোল নামক বিষাক্ত রাসায়নিক থাকার অভিযোগ উঠেছে। প্রাথমিক পরীক্ষায় ওই কাশির সিরাপে বিপজ্জনক মাত্রায়, প্রায় ৪৮.৬ শতাংশ ডাই-ইথাইল গ্লাইকোল পাওয়া গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই রাসায়নিক শরীরে প্রবেশ করলে কিডনি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে শিশুদের মৃত্যু হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্র সরকার উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলির সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করার। সেই বৈঠকে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে বিভিন্ন রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের কর্তাদের, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও ড্রাগ কন্ট্রোল সংস্থার প্রতিনিধিদের। আলোচনায় মূলত কয়েকটি বিষয়কে প্রাধান্য দেওয়া হবে শিশুদের জন্য কাশির সিরাপ ও অনুরূপ ওষুধ কতটা প্রয়োজনীয়, ওষুধ তৈরির সময় মান নিয়ন্ত্রণ কতটা কড়া হওয়া উচিত, বাজারজাত করার আগে পরীক্ষার মানদণ্ড কতটা শক্তিশালী করা দরকার, এবং চিকিৎসকরা প্রেসক্রিপশন দেওয়ার ক্ষেত্রে কতটা সতর্ক হবেন।
এদিকে রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, তামিলনাড়ু ও কেরলের মতো রাজ্য ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট সিরাপের বিক্রি বন্ধ করেছে। কিছু রাজ্য ওই সিরাপের নির্দিষ্ট ব্যাচ বাজেয়াপ্তও করেছে। কেন্দ্র সরকারও নির্দেশ দিয়েছে, দুই বছরের কম বয়সী শিশুদের জন্য কোনও অবস্থাতেই কাশির সিরাপ প্রেসক্রাইব করা যাবে না।
এই ঘটনা ওষুধ শিল্পের মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বড় প্রশ্ন তুলেছে। একদিকে শিশুমৃত্যুর মতো মর্মান্তিক ঘটনা ঘটছে, অন্যদিকে ওষুধের মান বজায় রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে উৎপাদনকারী সংস্থাগুলি। তাই বিশেষজ্ঞদের মত, কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ উদ্যোগে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি। উৎপাদন কারখানায় নিয়মিত পরিদর্শন, মান পরীক্ষার কড়াকড়ি, দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলির ওপর কঠোর আইন প্রয়োগ এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত না হলে এই ধরনের ঘটনা রোধ করা সম্ভব নয়।
