ওঙ্কার ডেস্ক: ভারতের নতুন উপ-রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে নিজেদের প্রার্থী হিসেবে মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল চন্দ্রপুরম পন্নুসামি রাধাকৃষ্ণণের নাম ঘোষণা করল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। রবিবার নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিজেপির সংসদীয় বোর্ডের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং ও বিজেপি সভাপতি জেপি নাড্ডা।
ঘোষণা করে জেপি নাড্ডা বলেন, “আমরা চাই এই নির্বাচন সর্বসম্মত হোক। বিরোধী দলগুলির সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে।” প্রধানমন্ত্রী মোদী রাধাকৃষ্ণণকে “নিষ্ঠাবান, বিনয়ী ও প্রজ্ঞাবান” নেতা হিসেবে উল্লেখ করে লেখেন, সমাজসেবায় ও প্রান্তিক মানুষদের ক্ষমতায়নে তাঁর অবদান গুরত্বপুর্ন। রাধাকৃষ্ণণও এক্স-এ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও এনডিএ নেতৃত্বকে ধন্যবাদ জানান। তিনি লেখেন, “দেশসেবায় সর্বশক্তি নিয়োগ করব এবং শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত দেশের জন্য কাজ করে যাব।”
২০২২ সালের অগস্টে দায়িত্ব নেওয়া উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড় ২১ জুলাই আকস্মিকভাবে স্বাস্থ্যজনিত কারণে পদত্যাগ করায় এই পদ শূন্য হয়। সেই শূন্যস্থান পূরণে এগোল এনডিএ। নির্বাচন কমিশনের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী মনোনয়ন জমার শেষ দিন ২১ অগস্ট, যাচাই ২২ অগস্ট, প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৫ অগস্ট। প্রয়োজনে ভোট হবে ৯ সেপ্টেম্বর সংসদ ভবনে, সেদিন সন্ধ্যাতেই গণনা সম্পন্ন হবে।
সি পি রাধাকৃষ্ণণ দীর্ঘ চার দশকের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা আছে। ১৯৫৭ সালে তামিলনাড়ুর তিরুপ্পুরে জন্ম তাঁর। রাধাকৃষণ আরএসএসের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে রাজনৈতিক জীবন শুরু করেন। জনসংঘের রাজ্য কার্যনির্বাহী সমিতির সদস্য হয়ে ধীরে ধীরে উঠে আসেন বিজেপি রাজনীতিতে। দু’বার লোকসভার সাংসদ নির্বাচিত হন কোয়েম্বাটুর থেকে। সাংসদ থাকাকালীন টেক্সটাইলস কমিটির চেয়ারম্যান ছিলেন, পাশাপাশি ফাইনান্স ও পাবলিক সেক্টর কমিটিতেও কাজ করেছেন তিনি। জাতীয় স্তরে ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে অংশ নিয়েছেন, এমনকি ভারতের প্রথম সংসদীয় প্রতিনিধি হিসেবে তাইওয়ান সফরও করেছেন। তামিলনাড়ু বিজেপির রাজ্য সভাপতি, কেন্দ্রীয় কয়ার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ঝাড়খণ্ড ও মহারাষ্ট্রের রাজ্যপাল একাধিক গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলেছেন তিনি।খেলাধুলায়ও আগ্রহী রাধাকৃষ্ণণ কলেজ জীবনে টেবিল টেনিস, দীর্ঘদৌড়, ক্রিকেট ও ভলিবলে সাফল্য পেয়েছিলেন।
সংসদে উপ রাষ্ট্রপতি পদের নির্বাচনে অংশ গ্রহন করতে পারে ৭৮২ জন। জিতিতে গেলে প্রয়োজন ৩৯১ টি ভোট। কিন্তু এই মুহুর্তে এনডির কাছে রয়েছে ৪২২ জন সদস্যের সমর্থন। এর ফলে রাধাকৃষ্ণণের জয় কিছুটা হলেও নিশ্চিত বলে মনে করছেন রাজনৈতিক দলের একাংশ।
