ওঙ্কার ডেস্ক: বামফ্রন্টে আসন বণ্টনের পুরনো সমীকরণ কি এবার বদলাতে চলেছে? রেজিনগরে প্রার্থী ঘোষণা ঘিরে সেই প্রশ্নই জোরালো হয়েছে। দীর্ঘদিনের ‘সিটিং অ্যাডজাস্টমেন্ট’ পদ্ধতি থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছে সিপিএম। ১৯৮২ সাল থেকে বামফ্রন্টের আসন সমঝোতায় একটি প্রচলিত রীতি চলে আসছে। কোন শরিক আগে কোন আসনে লড়েছে, তা বণ্টনের সময় বিশেষ গুরুত্ব পেত। এবার সেই ব্যবস্থাকে আর অবিকল ধরে রাখার পক্ষপাতী নয় আলিমুদ্দিন স্ট্রিট।
নতুন ভাবনায় সাংগঠনিক শক্তিই হতে পারে প্রধান মাপকাঠি। যে এলাকায় যে শরিকের সংগঠন বেশি শক্তিশালী, প্রার্থী দেওয়ার ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার মিলবে সেই দলকে। রেজিনগরে সিপিএমের প্রার্থী ঘোষণা সেই নীতিরই ইঙ্গিত বলে মনে করা হচ্ছে। রেজিনগর বরাবরই বামফ্রন্টের আসন সমঝোতায় গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরে সেখানে শরিক দলের সঙ্গে আসন নিয়ে বোঝাপড়া ছিল। এবার সেই আসনে সিপিএম প্রার্থী দেওয়ায় শরিকদের একাংশ ক্ষুব্ধ। তবে শরিকদের আপত্তিকে খুব বেশি গুরুত্ব দিতে চাইছে না সিপিএম নেতৃত্বের একাংশ। সংগঠনের বর্তমান পরিস্থিতিকে সামনে রেখেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পক্ষপাতী তারা। পুরনো সমঝোতার বদলে মাঠের বাস্তবতাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
সিপিএমের একাংশের যুক্তি, সময়ের সঙ্গে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি বদলেছে। বাম শরিক দলগুলির সাংগঠনিক অবস্থাতেও পরিবর্তন এসেছে। ভোটের হিসাবেও আগের সমীকরণ আর নেই। ফলে বহু বছর আগের সমঝোতা হুবহু বজায় রাখার যুক্তি কতটা কার্যকর, তা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে। তাঁদের মতে, কোনও আসনে কোনও শরিকের সংগঠন কার্যত দুর্বল হয়ে গেলে শুধুমাত্র অতীতের ‘সিটিং’ সমীকরণের কারণে সেই আসন ধরে রাখার অর্থ নেই। এতে বর্তমান সাংগঠনিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা হবে। সব মিলিয়ে আসন সমঝোতায় নতুন সমীকরণ চালু করলেও নির্বাচনী ফল কী হয় আপাতত সেদিকেই নজর।