ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ……
ভারতীয় রাজনীতির চলতি প্রবণতাকে রুখবে কে, কী ভাবে আগামীদিনে বাসযোগ্য পৃথিবী পাবে আগামী প্রজন্মের তরুণরা। একেই বিশ্বজুড়ে জেনারেশন গ্যাপ একটা বড় সমস্যা। তার উপর অন্যান্য ক্ষেত্রের মতো রাজনীতিতেও যদি অচলায়তন চলতে থাকে তা যে কোনো দেশের পক্ষে সংকটজনক। কী চলছে এবং কী চাইছে এই দুয়ের মধ্যে যদি ব্যবধান বাড়তে থাকে তাহলে অবশ্যম্ভাবী ভাবে তার প্রভাব এসে পড়ে জাতীয় প্রগতির উপর। যে কারণেই আজ রাস্তায় নেমেছে তরুণ সমাজ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ছে তাদের অস্তিত্বের লড়াই। জার্মানি, ফ্রান্স, ইতালি, স্পেন, পর্তুগাল, বেলজিয়াম, আলবেনিয়া, সার্বিয়ায় জেন জি-র আন্দোলন চরমে উঠেছে। অতএব ভারতে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে বিদ্রোহ কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তবু এদের মানসিকতা বোঝার উৎসাহ সে ভাবে দেখা যাচ্ছে না- তা ইউরোপেই হোক কিংবা ভারতে। বরং রাষ্ট্রীয় শক্তি এদের কার্যত বিচ্ছিন্নতাকামী বলে দাগিয়ে দিতে চাইছে। ভারতে যেমন জেন জি-দের অগ্রভাগে রয়েছে ককরোচ, তেমনি জার্মানির জেন–জেড রেগেল্ট’ শিক্ষা ক্ষেত্রে আকাশচুম্বী ব্যয়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহে নামায় জার্মানিতে অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এ দেশেও শিক্ষাক্ষেত্রে দুর্নীতির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ দেখাতে গিয়ে ককরোচদের আগমন। অর্থাৎ বিশ্ব জুড়ে যে পরিকাঠামোর বিরুদ্ধে জেহাদ তরুণ সমাজের কোনো না কোনো ভাবে তার উন্নয়নের মধ্য দিয়েই কিন্তু দেশের অগ্রগতি নির্ভর। প্রতিটি দেশে এই বয়সের তরুণ প্রজন্মের মূলত একটাই দাবি শিক্ষাক্ষেত্রে স্বাভাবিকীকরণ, যুগোপযোগী করা, অন্তরায়গুলো নিস্পত্তি করা। সাদা চোখে দেখলে এর মধ্য দিয়েই গড়ে ওঠে জাতীর ভবিষ্যৎ। এই সহজ কথাটাই মেনে নিতে পারছে না চালকা শক্তি। তাহলে কী সত্যকে মেনে নিতে গেলে টান পড়ছে স্বার্থে ? দ্বন্দ্বটা যেন এখানেই। এরই ঘর্ষণে জ্বলছে জার্মানি, ফ্রান্স। দিল্লির যন্তর মন্তরেও আমরা দেখেছি তরুণ সমাজের পুঞ্জিভূত শক্তির প্রকাশ। ১১২ বছর আগে রবীন্দ্রনাথ লিখে গিয়েছিলেন- “ওরে নবীন, ওরে আমার কাঁচা, ওরে সবুজ, ওরে অবুঝ,আধমরাদের ঘা মেরে তুই বাঁচা।” এতবছর পরে ‘বলাকা’-র মতো বিশ্বজুড়ে যেন জেগে উঠেছে ‘সবুজের অভিযান’।