সংবাদ মাধ্যমে কেন্দ্রের কুঠারাঘাত
জ্ঞানেশকে নিয়ে নাজেহাল পরিস্থিতির মধ্যে মোদীর কাছে এখন গোদের উপর বিষ ফোঁড়া তাঁরই চোখের মণি আম্বানি-আদানি। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে এবার তাঁরাও সুপ্রিম কোর্টে। বিষয়টি আরও স্পষ্ট করা যাক- কেন্দ্রীয় সরকারের আনা নতুন ডিজিটাল ব্যক্তিগত ডেটা সুরক্ষা আইন এবং তার নিয়মাবলির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছে মুকেশ আম্বানি ও গৌতম আদানির মালিকানাধীন সংস্থাসহ ২১টি শীর্ষস্থানীয় ডিজিটাল সংবাদমাধ্যমের একটি জোট। ডিজিটাল নিউজ পাবলিশার্স অ্যাসোসিয়েশন-এর করা এই মামলার প্রেক্ষিতে সুপ্রিম কোর্ট কেন্দ্র সরকার এবং ইলেকট্রনিক্স ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রক-এর কাছে জবাব চেয়ে নোটিশ জারি করেছে। মামলার মূল বিষয়বস্তু হল- পূর্ব-সেন্সরশিপের অভিযোগ। পিটিশনে বলা হয়েছে, আইনটি কার্যকর হলে কোনো সংবাদ বা প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে বাধ্যতামূলকভাবে অনুমতি বা সম্মতি নিতে হবে, যা প্রকারান্তরে সংবাদমাধ্যমের ওপর ‘পূর্ব-সেন্সরশিপ’-এর সামিল। যাকে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় খাঁড়া বলে ধরা হচ্ছে। সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তদন্তাধীন বা প্রভাবশালী কোনো ব্যক্তির ব্যাপারে প্রতিবেদন করতে গেলে আগে থেকে তার অনুমতি নেওয়ার শর্ত থাকলে তারা তথ্যপ্রমাণ নষ্ট করা বা সাক্ষীদের ভয় দেখানোর সুযোগ পেয়ে যাবে, যা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে পঙ্গু করে দেবে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সিঙ্গাপুর বা ব্রিটেনের ডেটা সুরক্ষা আইনে সাংবাদিকদের জন্য সুস্পষ্ট লিখিত ছাড় থাকলেও, ভারতের নতুন আইনে সাংবাদিকদের জন্য তেমন কোনো সুরক্ষা বা ছাড় রাখা হয়নি। আইনটি এমন কিছু ক্ষমতা দিয়েছে যা সাংবাদিকতার গোপন সূত্র প্রকাশ করতে বাধ্য করতে পারে বা প্রকাশিত প্রতিবেদন সরিয়ে নিতে বাধ্য করতে পারে। এই আইনি ২০২৭ সালের মে মাস থেকে পুরোপুরি চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে কেন্দ্র। এ বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী ও বিচারপতি ভি মোহনার বেঞ্চ এই মামলায় কেন্দ্রের প্রতিক্রিয়া তলব করেছেন।