রামলীলায় কী লঙ্কাকাণ্ড !
কার ভাগ্যে ২৯-এর শিকে ছিঁড়তে পারে তার একটা নমুনা মিলতে পারে দিল্লির রামলীলায়। অন্তত এমনটাই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। তাই ১ নভেম্বর রাজধানীতে কী পরিস্থিতি অপেক্ষা করছে সেদিকেই সজাগ দৃষ্টি এখন জাতীয় রাজনীতির। ইতিমধ্যে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বেশ আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে দাবি করেছেন, রামলীলা সমাবেশে ২০ লক্ষ মানুষের সমাগম হবে। সেই লক্ষ্যে সুকৌশলে তিনি এক বার্তা দিয়েছেন। বলেছেন, এটা কোনো রাজনৈতিক সমাবেশ নয়। সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে সামিল হওয়ার আহ্বান। তাতে ফলও মিলছে। ককরোচ জনতা পার্টি এই সমাবেশকে সমর্থন করেছে। বিভিন্ন অরাজনৈতিক সংগঠনগুলিকেও দেখা যাচ্ছে এই কর্মসূচিতে পায়ে পা মেলাতে। বস্তুত, রামলীলা ময়দান ঘিরে যে উৎসাহ ঘনীভূত হচ্ছে তাকে কী ভাবে নেবে বিজেপি, আরও অর্থবহ করে বলতে গেলে এর পাল্টা কী চাল দিতে চলেছে মোদী-শাহ। কারণ, জ্ঞানেশ কুমার ইস্যুতে বিরোধীদের নিশানা এখন আর নির্বাচন কমিশন ভবনে আটকে থাকেনি। এখন প্রত্যক্ষভাবে তা মোদীর দিকে। গাণিতিক নিয়মে বস্তুত যা হওয়ার ছিল সেটাই এখন সামনে এসে পড়েছে। নির্বাচন কমিশন কিংবা সুপ্রিম কোর্ট নিয়ে বিরোধীদের হাঁকডাক আসলে যে সংসদীয় রাজনীতিতে লক্ষ্যে পৌঁছানোর একটি প্রক্রিয়া মাত্র তা আর খুব একটা রহস্যাবৃত নয়। সম্মুখসমর আসন্ন। যন্তর মন্তর কাণ্ডে আমরা যা দেখেছিলাম, এবার কী সে পথেই যাবে কেন্দ্র ? সারা দেশ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে রাজধানী ? দিল্লির বাণিজ্য মহলকে দিয়ে যে প্রাথমিক অস্ত্রটি প্রয়োগ করা হয়েছিল, পালটা অস্ত্রে তা ভোঁতা হয়েছে। রাহুল গান্ধী জানিয়ে দিয়েছিলেন, জ্ঞানেশ কুমারকে সরিয়ে নিলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে এই কর্মসূচি তুলে নেওয়া হবে। সে পথে যায়নি শাসকপক্ষ, মর্যাদার প্রশ্নে হয়তো তা এখনই সম্ভবও নয় মোদী-শাহ-র কাছে। চলতি নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় জোরাতাপ্পির মধ্য দিয়ে যে মুখশুদ্ধি বিতরণের কাজ শুরু হয়েছে তাতে কাজের কাজ তেমন দেখা যাচ্ছে না। এটা বিলক্ষণ বুঝতে পারছে শাসক শিবির। এক একসময় এক একরকম পদক্ষেপ আরও বেশি সন্দিহান করে তুলছে সাধারণ মানুষকে। আর তাকেই রসদ হিসেবে কাজে লাগাতে চাইছে বিরোধী জোট। ফলে কী রাজনীতি বনাম রাষ্ট্রীয়যন্ত্রের স্বরূপ কী সামনে আসতে চলেছে ? একটাই প্রশ্ন, রামলীলায় কী লঙ্কাকাণ্ডের শুরু ?