কলকাতা: অতি তীব্র ঘূর্ণিঝড় হিসেবে অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূলে আছড়ে পড়েছিল অর্ণব। স্থলভাগে ঢোকার পর থেকেই শক্তি হারিয়েছে। দুর্বল হয়ে এখন সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। কিন্তু তার রেশ এখনও কাটেনি। অর্ণবের অবশিষ্টাংশের জেরে উত্তরবঙ্গে ভারী বৃষ্টির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানাল আলিপুর আবহাওয়া দফতর। পাশাপাশি বঙ্গোপসাগরে নতুন করে আরেকটি নিম্নচাপ তৈরি হচ্ছে, তার দিকেও নজর রাখছেন আবহবিদরা।
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, অর্ণবের অবশিষ্টাংশ বর্তমানে ছত্তীসগঢ় ও সংলগ্ন পূর্ব মধ্যপ্রদেশের উপর অবস্থান করছে। শুক্রবার সকালেই সুস্পষ্ট নিম্নচাপ থেকে তা সাধারণ নিম্নচাপে পরিণত হয়। এর সঙ্গে সমুদ্রতল থেকে সাড়ে চার কিলোমিটার উচ্চতায় ঘূর্ণাবর্ত রয়েছে। এর প্রভাবে উত্তরবঙ্গে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে, যার জেরে উত্তরের জেলাগুলিতে ভারী বৃষ্টি হতে পারে।
অন্যদিকে আন্দামান সাগরে একটি নতুন নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে। বর্তমানে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের কাছেই রয়েছে সেটি। ধীরে ধীরে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিম দিকে সরে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে পৌঁছবে এবং ৩১ অক্টোবরের মধ্যে ঘনীভূত হয়ে নিম্নচাপে পরিণত হবে। পরের দুদিনে তার অভিমুখ থাকবে পশ্চিম-উত্তর পশ্চিমে, অন্ধ্র উপকূলের দিকে এগোবে। তবে এই নিম্নচাপের প্রভাব আপাতত পশ্চিমবঙ্গে পড়বে না বলেই জানিয়েছে হাওয়া অফিস। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখা হচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গে আপাতত ঝড়বৃষ্টির কোনও সতর্কতা নেই। কিছু জেলায় মাঝেমধ্যে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হতে পারে। তবে উত্তরবঙ্গে দুর্যোগের আশঙ্কা রয়েছে। শনিবার দার্জিলিং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার ও কালিম্পঙে ভারী বৃষ্টির (৭ থেকে ১১ সেন্টিমিটার) পূর্বাভাস রয়েছে। উত্তরের বাকি জেলাগুলিতেও বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হবে। রবিবার ওই চার জেলার পাশাপাশি কোচবিহারেও সতর্কতা জারি থাকবে। ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি চলতে পারে। উত্তরবঙ্গে ৪ নভেম্বর পর্যন্ত বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, তারপর আবহাওয়া শুকনো হবে।