ওঙ্কার ডেস্ক : কুমিল্লায় এক মহিলার উপর নির্মম নির্যাতনের একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঢি ঢি পড়ে যায় গোটা বাংলাদেশে। নগ্ন করে নির্মমভাবে লাঞ্ছনা করা হচ্ছে এমন একটি ভিডিওতে আক্রমণকারীদের কাছে অনুনয় বিনয় করতে দেখা যায় মহিলাটিকে।
এই নির্যাতনের ঘটনাটি গত সপ্তাহের। কুমিল্লা জেলায় এক হিন্দু নারীর উপর নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় রবিবার বাংলাদেশ জুড়ে তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ব্যাপক ভাবে এই বিক্ষোভে সামিল হন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে “উপযুক্ত ব্যবস্থা” নেওয়ার দাবিতে রাস্তায় নামেন তাঁরা।
এই ঘটনার সাথে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে প্রধান অভিযুক্ত ৩৬ বছর বয়সি ফজর আলী, যিনি আবার স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা। কুমিল্লা জেলার পুলিশ প্রধান নাজির আহমেদ খান জানিয়েছেন, ঢাকার সায়েদাবাদ এলাকায় ভোরে অভিযান চালিয়ে প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় মহিলার ছবি এবং পরিচয় প্রকাশ করার জন্য আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশের মতে, নির্যাতিতার স্বামী দুবাইতে কাজ করতেন। স্থানীয় উৎসব, হরি সেবা উপলক্ষে তার সন্তানদের নিয়ে কুমিল্লার মুরাদনগর উপ-জেলায় তার পৈতৃক বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলেন। ১৬ জুলাই, রামচন্দ্রপুর পাঁচকিত্তা গ্রামের বাসিন্দা আলী রাত ১০টার দিকে বাড়িতে ঢুকে তাকে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়রা আলীকে ধরে মারধর করে। কিন্তু তারা তাকে পুলিশের হাতে তুলে না দিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সন্দেহভাজন ব্যক্তি হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ। যদিও অনেকে একথাও বলছেন যে ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পরেই পুলিশ এই পদক্ষেপ নিয়েছে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ধর্ষণের নিন্দা জানিয়ে ক্যাম্পাসে মিছিল করে। অন্যদিকে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য নিবেদিতপ্রাণ জগন্নাথ হলের ছাত্রাবাসের বাসিন্দারাও ন্যায়বিচারের দাবিতে সামিল হন বিক্ষোভ মিছিলে। প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে এবং আওয়ামী লিগের উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদও X-এ এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি গত ১১ মাসে গণপিটুনি, সন্ত্রাসবাদ এবং ধর্ষণের ঘটনা বৃদ্ধির জন্য ইউনূস প্রশাসনকে দায়ী করেছেন।
এদিকে, হাইকোর্ট শনিবার সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া নির্যাতনের ভিডিওটি অবিলম্বে অপসারণের জন্য কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ জারি করেছে। দুই বিচারপতির বেঞ্চ ধর্ষণের শিকার ওই তরুণীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছে।
