মাসের শেষের দিকে রান্নাঘরের চাল-ডালের কৌটো খুললে অনেক সময় দেখা যায়, কোনওটিতে একমুঠো মুসুর ডাল, কোনওটিতে সামান্য মুগ ডাল, আবার কোথাও পড়ে রয়েছে অল্প একটু ছোলার ডাল কিংবা অড়হর ডাল। প্রতিটি ডাল আলাদা করে রান্না করার মতো পরিমাণ নেই। আবার ফেলে দেওয়ার কথাও ভাবা যায় না। তা হলে উপায়? চিন্তা নেই! বাড়িতে পড়ে থাকা এই তিন-চার রকমের ডাল দিয়েই তৈরি করে ফেলতে পারেন মুচমুচে, সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ডালের বড়া। বিকেলের চায়ের সঙ্গে জমে যাবে এই পদ। বাড়িতে অতিথি এলে কিংবা হঠাৎ মুখরোচক কিছু খেতে ইচ্ছে করলেও এই রেসিপি হতে পারে দারুণ বিকল্প।
সবচেয়ে বড় কথা, এই রান্নায় নতুন করে অনেক উপকরণ কেনার প্রয়োজন নেই। ঘরে থাকা কয়েকটি সাধারণ মশলা দিয়েই তৈরি হবে অসাধারণ স্বাদের এই পদ। আসুন, জেনে নেওয়া যাক মিশ্র ডালের বড়া তৈরির সহজ পদ্ধতি।
কী কী উপকরণ লাগবে?
এই রেসিপিটি তিন থেকে চার জনের জন্য তৈরি করা যাবে।
মুসুর ডাল — ২ টেবিল চামচ
মুগ ডাল — ২ টেবিল চামচ
ছোলার ডাল — ২ টেবিল চামচ
অড়হর বা অন্য কোনও ডাল — ২ টেবিল চামচ
পেঁয়াজ কুচি — ১টি মাঝারি
কাঁচালঙ্কা কুচি — ২-৩টি
আদা বাটা বা কুচি — ১ চা চামচ
রসুন কুচি — ১ চা চামচ (ইচ্ছা অনুযায়ী)
হলুদ গুঁড়ো — আধ চা চামচ
জিরে গুঁড়ো — আধ চা চামচ
ধনেপাতা কুচি — ২ টেবিল চামচ
নুন — স্বাদমতো
চালের গুঁড়ো — ১-২ টেবিল চামচ
সর্ষের তেল — ভাজার জন্য
প্রথম ধাপ: ডাল ভিজিয়ে রাখা
প্রথমে বাড়িতে থাকা বিভিন্ন ডাল একসঙ্গে বেছে ভালো করে ধুয়ে নিন। এরপর একটি পাত্রে পর্যাপ্ত জল দিয়ে ডালগুলি ভিজিয়ে রাখুন। মুসুর ও মুগ ডাল সাধারণত ২-৩ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলেই চলে। তবে ছোলার ডাল বা অন্য শক্ত ডাল ব্যবহার করলে ৪-৬ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা ভালো। ডালগুলি যেন ভালোভাবে নরম হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।
এরপর জল ঝরিয়ে ডালগুলি মিক্সিতে নিন। অল্প জল দিয়ে মোটা করে বেটে নিন। একেবারে মিহি পেস্ট করবেন না। ডালের সামান্য দানাদার ভাব বজায় থাকলে বড়া আরও মুচমুচে হবে। প্রয়োজনে শক্ত ডালগুলি আলাদাভাবে একটু বেশি সময় ধরে বাটতে পারেন।
দ্বিতীয় ধাপ: মশলা মাখানো
এবার একটি বড় পাত্রে ডালের পেস্ট ঢেলে তার মধ্যে পেঁয়াজ কুচি, কাঁচালঙ্কা, আদা, রসুন, হলুদ, জিরে গুঁড়ো, ধনেপাতা এবং স্বাদমতো নুন মিশিয়ে নিন। সব উপকরণ ভালোভাবে মেখে নিতে হবে।
মিশ্রণটি বেশি পাতলা হয়ে গেলে সামান্য চালের গুঁড়ো মেশান। এতে বড়ার আকার দিতে সুবিধা হবে এবং ভাজার পরে বাইরের অংশ মুচমুচে হবে। মিশ্রণটি ১০-১৫ মিনিট রেখে দিন, যাতে মশলার স্বাদ ডালের সঙ্গে ভালোভাবে মিশে যায়।
তৃতীয় ধাপ: ভাজার পালা
কড়াইয়ে সর্ষের তেল গরম করুন। তেল মাঝারি গরম হলে হাত দিয়ে অল্প অল্প মিশ্রণ নিয়ে চ্যাপটা বড়ার আকার দিন। এরপর সাবধানে গরম তেলে ছেড়ে দিন।
প্রথমে মাঝারি আঁচে বড়াগুলি ভাজুন। একদিকে সোনালি রং ধরলে উল্টে অন্য দিকটিও ভেজে নিন। বাইরে মুচমুচে এবং ভিতরে ভালোভাবে সিদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত ভাজতে হবে। আঁচ খুব বেশি রাখবেন না, কারণ তাতে বাইরে পুড়ে গেলেও ভিতরে কাঁচা থেকে যেতে পারে।
বড়াগুলি সোনালি-বাদামি হয়ে গেলে তেল ঝরিয়ে তুলে নিন। ব্যস, তৈরি হয়ে গেল সুস্বাদু মিশ্র ডালের বড়া!
স্বাদ বাড়ানোর কয়েকটি টিপস
বড়ার স্বাদ আরও বাড়াতে চাইলে মিশ্রণে সামান্য ভাজা জিরের গুঁড়ো বা এক চিমটে হিং দিতে পারেন। ঝাল পছন্দ করলে কাঁচালঙ্কার পরিমাণ বাড়ানো যায়। পেঁয়াজের বদলে অল্প বাঁধাকপি কুচি বা পালং শাকও ব্যবহার করা যেতে পারে।
এই বড়া টম্যাটোর চাটনি, ধনেপাতার চাটনি কিংবা কাসুন্দির সঙ্গে পরিবেশন করলে স্বাদ আরও বেড়ে যাবে। বিকেলের চায়ের সঙ্গে যেমন ভালো লাগে, তেমনই গরম ভাত ও ডালের সঙ্গেও পরিবেশন করা যায়।