একটি ভাঙা টেস্টটিউব। আর তার জেরেই সুদূর সাইবেরিয়ায় ফিরে এল কালো মৃত্যুর আতঙ্ক। রাশিয়ার ইরকুটস্কে প্লেগে আক্রান্ত হয়ে এক তরুণী ল্যাব টেকনিশিয়ানের মৃত্যুর খবরে তোলপাড় গোটা এলাকা। ঘটনার জেরে অন্তত ৫টি হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে, ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে এবং বাতিল করা হয়েছে সমস্ত প্রকাশ্য অনুষ্ঠান।
মৃতের নাম দরিয়া শিপিলোভা, বয়স ২৮। তিনি কাজ করতেন শেলেখভের অ্যান্টি-প্লেগ রিসার্চ ইনস্টিটিউটে। এই প্রতিষ্ঠানটি ১৯৩৪ সালে প্লেগ নিয়ন্ত্রণের জন্যই তৈরি করা হয়েছিল। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের দাবি, ল্যাবে নমুনা সংগ্রহের সময় অসাবধানতাবশত জীবন্ত ব্যাকটেরিয়া ভর্তি একটি টেস্টটিউব ভেঙে ফেলেন দরিয়া। সেই থেকেই তিনি নিউমোনিক প্লেগে আক্রান্ত হন। হাসপাতালে ভর্তির সময় তিনি চিকিৎসকদের নিজেই এই কথা জানিয়েছিলেন।
জানা গিয়েছে, ২৯শে সেপ্টেম্বর গুরুতর নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে শেলেখভ হাসপাতালে ভর্তি হন তিনি। দ্রুত তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়, ভেন্টিলেশনে দেওয়া হয়। ১লা অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। দরিয়ার সংস্পর্শে আসা ২০০ জনেরও বেশি মানুষকে চিহ্নিত করে কোয়ারেন্টিনে পাঠানো হয়েছে এবং প্রতিদিন তাঁদের ল্যাব টেস্ট করা হচ্ছে।
প্রথমে ইরকুটস্কের গভর্নর ইগর কোবজেভ নিজেই জানিয়েছিলেন, একটি “অত্যন্ত বিপজ্জনক সংক্রমণের” সন্দেহজনক ঘটনা সামনে এসেছে। পরে রবিবার তিনি অবস্থান বদলে জানান, এটি অজানা কারণে হওয়া নিউমোনিয়ার ঘটনা। তাঁর দাবি, “রোগীর নমুনায় তাঁর পেশাগত কাজের সঙ্গে যুক্ত কোনও অণুজীব পাওয়া যায়নি।” তিনি আরও বলেন, ওই ইনস্টিটিউটের আর কোনও কর্মীর মধ্যে সংক্রমণের খবর নেই।
কতটা ভয়ঙ্কর এই নিউমোনিক প্লেগ?
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) বলছে, প্লেগের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক হল এই নিউমোনিক প্লেগ, যাকে ফুসফুসের প্লেগও বলা হয়। এটি সংক্রামিত পশু বা মাছির কামড় থেকে ছড়ায়, কিন্তু নিউমোনিক প্লেগ হাঁচি-কাশির মাধ্যমে এক মানুষ থেকে অন্য মানুষে ছড়িয়ে পড়তে পারে। সংক্রমণের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উপসর্গ দেখা দিতে পারে — তীব্র শ্বাসকষ্ট, রক্তমাখা কফ সহ কাশি। WHO-র সতর্কবার্তা, দ্রুত রোগ নির্ণয় করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসা শুরু না হলে এই রোগ প্রাণঘাতী। তবে সময়মতো চিকিৎসা হলে সুস্থ হওয়ার হার অনেক বেশি।