নিজস্ব প্রতিনিধি, নন্দীগ্রাম: ভোটের দিনই উত্তপ্ত নন্দীগ্রাম। কালীচরণপুর অঞ্চলের গড় চক্রবেড়িয়া ৭ নম্বর জলপাইয়ের ২৪১ এবং ২৪২ নম্বর বুথে মহিলা ভোটারদের উপর হামলার অভিযোগ উঠল বহিরাগত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। আর সেখানেই পুলিশের সঙ্গে বচসার জেরে লাঠিচার্জে আহত হলেন তিনি নিজেই, এমনটাই অভিযোগ কংগ্রেস প্রার্থীর।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকালে ভোট চলাকালীন ২৪১ ও ২৪২ নম্বর বুথে মহিলা ভোটারদের আটকে দেওয়া হয় এবং মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। অভিযোগের তির বহিরাগত দুষ্কৃতীদের দিকে। খবর পেয়ে মহিলারা বুথের সামনে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন। সেই সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছলে মহিলারা পুলিশকে ঘিরে ধরে অভিযোগ জানান।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ হঠাৎই লাঠি উঁচিয়ে তেড়ে যায় এবং মহিলাদের ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ করে। সেই সময় মহিলাদের পাশে দাঁড়াতে গিয়ে পুলিশের লাঠির ঘায়ে আহত হন কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধান। আহত অবস্থাতেই মিলন প্রধান অভিযোগ করেন, “পুলিশ সাধারণ মানুষের উপর লাঠিচার্জ করেছে। আমাকেও মেরেছে। ভোট লুট হচ্ছে, মানুষকে ভোট দিতে দেওয়া হচ্ছে না। বহিরাগতদের দিয়ে মহিলাদের উপর হামলা করানো হচ্ছে।” এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়েছে।
প্রসঙ্গত, নন্দীগ্রামের কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে নিয়ে ভোটের আগেই নাটকীয় পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। ২০০৭ সালের জমি আন্দোলনের সময়কার ১৯ বছরের পুরনো ৬টি মামলায়, যার মধ্যে খুনের অভিযোগও ছিল, তাঁকে মনোনয়ন জমা দেওয়ার পরই গ্রেফতার করে পুলিশ। সেই সময় মিলন অভিযোগ করেছিলেন, “চোখে গামছা বেঁধে আমাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, ভেবেছিলাম এনকাউন্টার করে দেবে।” মনোনয়ন প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল বলেও বিস্ফোরক অভিযোগ তোলেন তিনি।
পরে কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষ তাঁকে ২০ অক্টোবর পর্যন্ত অন্তর্বর্তী জামিন দেন এবং ২১ অক্টোবর হলদিয়া আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন। রাজ্য সরকার সেই জামিনের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে গেলেও, প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্তের বেঞ্চ ভোটের মুখে তাঁকে বাইরে থাকারই অনুমতি দেয়।
জেল থেকে বেরিয়েই প্রচারে নেমে মিলন প্রধান বারবার অভিযোগ করেছিলেন, নন্দীগ্রামে সুষ্ঠু ভোট হবে না। আজকের ঘটনা যেন তাঁর সেই আশঙ্কাকেই সত্যি করল বলে মনে করছে কংগ্রেস শিবির। এদিকে পুলিশের তরফে লাঠিচার্জের অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। তাদের দাবি, বিক্ষোভকারীদের সরাতে মৃদু বলপ্রয়োগ করা হয়েছে মাত্র।