ওঙ্কার ডেস্ক: একই পরিবারের ১৩ জনকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। আফগানিস্তানের আদালত তাঁকে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দিয়েছিল। তালিবান প্রশাসন প্রকাশ্যে সেই শাস্তি কার্যকর করল। ভরা স্টেডিয়ামে আসামিকে গুলি করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল। গুলি করেছে অভিযোগকারী পরিবারের এক সদস্য। আফগানিস্তানের খোস্ত প্রদেশে গত মঙ্গলবার এই ঘটনা ঘটেছে।
রিপোর্ট অনুসারে, এক মহিলা, নয় জন শিশু-সহ একই পরিবারের ১৩ জনকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল ওই আসামির বিরুদ্ধে। আফগানিস্তানের নিম্ন আদালত এবং আপিল আদালত ওই অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ডের সাজা দেয়। সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ বহাল রাখে। তালিবানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদাও আসামির মৃত্যুদণ্ডের পক্ষেই সায় দেন। এর পর তা কার্যকর করা হয়। মঙ্গলবার খোস্ত প্রদেশে এক স্টেডিয়ামে আসামির মৃত্যুদণ্ডের সাক্ষী থাকতে জড়ো হয়েছিলেন প্রায় ৮০ হাজার মানুষ। যে পরিবারের ১৩ জনকে খুনের অভিযোগ উঠেছিল, সেই পরিবারের বাকি লোকজনও হাজির ছিল। নিহতদের পরিবারের এক সদস্যকে দিয়ে গুলি করানো হয়। সূত্রের খবর, ১৩ বছর বয়সি এক নাবালককে দিয়ে আসামিকে গুলি করা হয়।
উল্লেখ্য, আফগানিস্তানে প্রথম পর্যায়ে তালিবান শাসন চলেছে ১৯৯৬-২০০১ সাল পর্যন্ত। সেই সময় পর্বে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া স্বাভাবিক হয়ে উঠেছিল। ২০২১ সালে আফগানিস্তানে আবার ক্ষমতার মসনদে বসে তালিবান। তালিবানের দ্বিতীয় পর্যায়ের শাসনে এই নিয়ে ১১ বার প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হল। অন্যদিকে প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে রাষ্ট্রসঙ্ঘ। আফগানিস্তানে নিযুক্ত রাষ্ট্রসঙ্ঘের বিশেষ দূত রিচার্ড বেনেট সমাজ মাধ্যমে এই ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় লেখেন, ‘প্রকাশ্যে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া অমানবিক। শাস্তি দেওয়ার এই নিষ্ঠুর এবং অস্বাভাবিক প্রথা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী।’
