ওঙ্কার ডেস্কঃ দিল্লির গাড়ি দুর্ঘটনা নিয়ে উত্তাল রাজধানীর পরিস্থিতি। গত ৩ ফেব্রুয়ারি দিল্লির দ্বারকায় এসইউভির ধাক্কায় মৃত্যু হয় সাহিল ধানাস্রে নামে এক যুবকের। সেই ঘটনায় অভিযুক্ত এক নাবালক। গাড়ির স্টিয়ারিং সেই নাবালকের হাতেই ছিল বলে অভিযোগ। এই ঘটনায় তুমুল হইচইয়ের মধ্যে মুখ খুললেন অভিযুক্ত নাবালকের বাবা। তিনি বলেন, ‘‘এটি ভুল ছিল। আমার পরিবারের তরফ থেকে এই ঘটনার জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করছি। আমিও এক জন সন্তানের বাবা। আমার ছেলে ভুল করছে। আর এর জন্য আমার পরিবারের সকলে অনুতপ্ত।’’
অভিযুক্তের বাবা জানিয়েছেন, তাঁর ছেলে যে কাণ্ড করেছে, তাঁর জন্য লজ্জাবোধ হচ্ছে। ঘটনার দিন তিনি দিল্লিতে ছিলেন না। কাজের জন্য গোরক্ষপুর ছিলেন। তিনি থাকলে এমন কান্ড ঘটত না। কারণ, ছেলে তাঁকে ভয় পায়।
অভিযুক্তের বাবার দাবি, যে সময় তাঁর ছেলে গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গিয়েছিল, স্ত্রী বাড়িতেই ছিলেন। তিনি ছেলেকে বকাঝকাও করেছিলেন। কিন্তু ছেলে শুনতে চায়নি। তিনি বলেন, ‘‘আমি যখন ফোন পেয়েছিলাম বাড়ি থেকে, তখন বলেছিলাম আহত যুবককে যেন হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।’’ ওই দিনই গোরক্ষপুর থেকে দিল্লিতে ফিরে এসেছিলেন।
অভিযোগ উঠেছিল, ঘটনার আগে গাড়িতে নাবালকের পাশে বসে রিলস বানাচ্ছিল তারই বোন। এই প্রশ্ন করা হলে অভিযুক্তের বাবা বলেন, ‘‘আমি ঘটনা সম্পর্কে কিছুই জানতাম না। ছেলের ড্রাইভিং লাইসেন্সও নেই। তবে মেয়ে রিল বানাচ্ছিল না। ছবি এবং ভিডিয়ো করছিল।’’
এই ঘটনা পুণের পোর্শেকাণ্ডের স্মৃতিকে উস্কে দিয়েছে। সেই ঘটনাতেও চালকের আসনে ছিল এক নাবালক। দিল্লির ঘটনার ভিডিয়ো প্রকাশ্যে এসেছে। যদিও মৃত যুবকের মা অপর একটি ভিডিয়ো শেয়ার করে দাবি করেছেন, ভিডিয়োটি কাটছাঁট করা হয়েছে। যে সময় দুর্ঘটনা ঘটেছে, সেই সময়েরই দৃশ্য নেই এই ভিডিয়োয়। অভিযুক্ত নাবালক চালককে প্রথমে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়। তার পর গত ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে জামিন দিয়েছে জুভেনাইল জাস্টিস বোর্ড। আদালতের যুক্তি, অভিযুক্তের বোর্ডের পরীক্ষা থাকার জন্য সাময়িক ভাবে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
