ওঙ্কার ডেস্ক: দিল্লির স্বঘোষিত ধর্মগুরু চৈতন্যানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে মরাত্মক অভিযোগ তরুণীর। ২০১৬ সালে চৈতন্যানন্দ সরস্বতীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়েরকারী তরুণীর দাবি, তাঁর উপর ‘শকুনের মত নজর’ ছিল স্বঘোষিত বাবার। শুধু তাই নয়, তাঁকে অশ্লীল বার্তা পাঠিয়েছিলেন বলেও অভিযোগ তরুণীর। তাঁকে ‘বেবি’ এবং ‘সুইট গার্ল’ বলে সম্বোধন করেছিলেন চৈতন্যানন্দ।
নির্যাতিতা তরুণীর তরফে দায়ের করা এফআইআর এ বলা হয়েছে, মাত্র আট মাসের মধ্যে তিনি শ্রী শারদা ইনস্টিটিউট অফ ইন্ডিয়ান ম্যানেজমেন্ট থেকে পড়াশোনা ছেড়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘এটি আমার জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় ছিল। আমি ইনস্টিটিউটে যোগদানের পরেই ‘বাবা’ আমাকে অশ্লীল বার্তা পাঠানো শুরু করেছিলেন। তিনি আমাকে ‘বেবি’ এবং ‘সুইট গার্ল’ বলে সম্বোধন করতেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছটায় ক্লাস শেষ হওয়ার পর তিনি আমাকে তাঁর অফিসে ফোন করে ডেকে হয়রানি করতেন।’
তিনি বলেন, চৈতন্যানন্দ ওই তরুণীকে বলতেন তিনি ‘খুব মেধাবী’ এবং তিনি তাঁকে দুবাইতে পড়াশোনার সুযোগ করে দিতে চান। শুধু তাই নয় সে জন্য সমস্ত খরচ বহন করার ইচ্ছা প্রকাশ করেন স্বঘোষিত বাবা। তরুণী বলেন, ‘আমি এটা মোটেও চাইনি, কিন্তু তাঁর কর্মীরা আমার উপর চাপ তৈরি করতে থাকে। ‘বাবা’ আমার মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং আমাকে হোস্টেলে একা থাকতে বাধ্য করেন। আমাকে কারও সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হত না। তিনি রাতে আমাকে ফোন করতেন। আমার উপর তাঁর শকুনের মতো নজর ছিল।’
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, চৈতন্যানন্দ তাঁর প্রভাব এবং নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে ২০০৯ এবং ২০১৬ সালে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন হেনস্থার অভিযোগ এড়িয়ে গেছেন। সম্প্রতি আগস্টের শুরুতে ১৭ জন মহিলা যৌথভাবে দিল্লিতে অভিযোগ দায়ের করেন। সেই সময়ে, চৈতন্যানন্দ লন্ডনে ছিলেন বলে মনে করা হয়েছিল। যদিও পরে তাঁকে আগ্রায় খুঁজে পাওয়া যায়। তিনি প্রথমে দিল্লি হাইকোর্টে আগাম জামিনের আবেদন করেছিলেন কিন্তু কয়েকদিনের মধ্যেই তা প্রত্যাহার করে নেন। এরপর থেকে দিল্লি পুলিশ স্বঘোষিত বাবার সন্ধানে দিল্লি, হরিয়ানা, উত্তরপ্রদেশ, উত্তরাখণ্ড এবং রাজস্থান জুড়ে অভিযান চালিয়েছে। দেশ ছেড়ে যাতে যেতে না পারেন সে কারণে একটি লুকআউট সার্কুলার জারি করা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত নিখোঁজ চৈতান্যনন্দ।
