ওঙ্কার ডেস্ক: ভুটান সফর শেষে দিল্লি ফিরে সরাসরি হাসপাতালে পৌঁছে যান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। লালকেল্লার সামনে ভয়াবহ বিস্ফোরণে আহতদের দেখতে যান তিনি। বিস্ফোরণের পর থেকেই গোটা রাজধানীজুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রেড ফোর্টের সামনে ট্রাফিক সিগন্যালে দাঁড়িয়ে থাকা একটি হুন্ডাই আই২০ গাড়িতে হঠাৎই ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটে। মুহূর্তের মধ্যেই আগুনের ফুলকি ছড়িয়ে পড়ে চারপাশে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় অন্তত ৮ জনের, গুরুতর জখম হন আরও ২০ জনের বেশি। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের দোকানপাট, পার্ক করা অন্যান্য যানবাহন এবং রাস্তায় থাকা মানুষজন ছিটকে পড়েন চারদিকে।
ঘটনার খবর পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দিল্লি পুলিশ, এনআইএ ও ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা। এলাকাটি ঘিরে ফেলে শুরু হয় তদন্ত। প্রাথমিকভাবে মনে করা হচ্ছে, এটি কোনও পরিকল্পিত নাশকতা। বিস্ফোরণের ধরণ এবং গাড়ির মধ্যে উদ্ধার হওয়া অবশিষ্টাংশ পরীক্ষা করে এমনই ইঙ্গিত মিলছে তদন্তকারীদের হাতে।
দিল্লি ফিরে সোজা হাসপাতালে পৌঁছে আহতদের খোঁজখবর নেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলে প্রত্যেক আহতের চিকিৎসার অগ্রগতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য নেন তিনি। হাসপাতাল থেকে বেরিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, “এই ষড়যন্ত্রের মূল পর্যন্ত পৌঁছবে তদন্তকারী সংস্থাগুলি। অপরাধীদের কেউ রেহাই পাবে না।” পাশাপাশি তিনি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গেও কথা বলেন এবং আহতদের সর্বোত্তম চিকিৎসার নির্দেশ দেন।
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিস্ফোরণের পর থেকেই নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে। রেড ফোর্টের আশপাশে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশবাহিনী। সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে, ঘটনাস্থলে কোনও সন্দেহজনক ব্যক্তি বা গাড়ি ঘুরছিল কি না তা নির্ধারণের চেষ্টা চলছে।
এই ঘটনার জেরে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। ঐতিহাসিক লালকেল্লার মতো উচ্চ নিরাপত্তাসম্পন্ন এলাকায় এমন বিস্ফোরণ ঘটায় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনের নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর। একদিকে চলছে তদন্ত, অন্যদিকে নিহত ও আহতদের পরিবারগুলির আর্তনাদে শোকস্তব্ধ রাজধানী। সরকার জানিয়েছে, নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা ও আহতদের পূর্ণ চিকিৎসার দায়িত্ব নেবে কেন্দ্র।
