ওঙ্কার ডেস্ক : মুজাফফর রাঠেরের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ফলে তিনি আরও বেশি স্বাধীনতার সঙ্গে কাজ করতে পারছেন, এমনটাই মনে করছে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা। বিদেশ থেকেই তিনি ছাত্রদের মৌলবাদী করে তোলার কাজে বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠার তথ্য তদন্তকারী সংস্থার হাতে এসেছে।
শীর্ষ গোয়েন্দা সূত্র সতর্ক করে দিয়েছে যে, ভারত থেকে মুজাফফর রাঠেরের চলে যাওয়া এবং বিদেশে তার বর্তমান উপস্থিতি ভারতের কাছে একটি স্থায়ী সমস্যা হয়ে থাকবে। তার নেটওয়ার্ক ট্র্যাক করা সূত্র অনুসারে জানা গেছে, রাঠেরের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার ফলে আরও স্বাছন্দ্যে কাজ করতে পেরেছেন। গত কয়েক বছর ধরে তিনি কাশ্মীরি পেশাদার এবং ছাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে চলেছেন। জম্মু ও কাশ্মীর পুলিশ গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্ত ডক্টর আদিল আহমেদ রাঠেরের ভাই ডক্টর মুজাফফর আহমেদ রাঠেরকে এই মাসের শুরুতে দিল্লিতে লাল কেল্লা বিস্ফোরণের পরিকল্পনাকারী ডাক্তারদের সন্দত্রাসবাদী মডিউলের প্রধান সমন্বয়কারী এবং বিদেশী সংযোগ হিসাবে চিহ্নিত করেছে।
সূত্র থেকে জানা যায়, রাঠেরের তিনজন বিদেশী হ্যান্ডলারের দ্বারা পরিচালিত হয়েছিলেন যারা বছরের পর বছর ধরে কাশ্মীরের বাইরে সন্ত্রাসবাদী কর্মকাণ্ড পুনরুজ্জীবিত করার জন্য কাজ করে আসছিলেন। এই হ্যান্ডলাররা পাকিস্তান-ভিত্তিক অপারেটিভ মনসুর এবং হাশিম এবং একজন আফগান নাগরিক ডঃ উকাশা – আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দ (AGuH), জইশ-ই-মোহাম্মদ (JeM) এবং ISIS-K-এর সহযোগী সংগঠনগুলির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত ছিল। তারা পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত গোষ্ঠীগুলির এই অঞ্চলে “জিহাদ” একচেটিয়া প্রভাবে অসন্তুষ্ট ছিল বলে জানা গেছে। তাই তারা উচ্চ শিক্ষিত অপারেটিভদের নিয়ে নতুন করে বিকেন্দ্রীভূত গোষ্ঠী তৈরি করতে চেয়েছিল। এক পর্যায়ে, হ্যান্ডলাররা কাশ্মীরি নিয়োগকারীদের আফগানিস্তানে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করেছিল যাতে একটি নতুন জঙ্গি কমান্ড কাঠামো তৈরি করা যায়।
এই প্রচেষ্টায় রাঠের একজন মূল সহায়তাকারী হিসেবে আবির্ভূত হন। ২০২৫ সালের আগস্টে আফগানিস্তানে চলে যাওয়ার আগে মুজাফফর রাঠেরের তুরস্ক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতে ঘন ঘন ভ্রমণে এই ইঙ্গিত মিলেছে যে মৌলবাদী কাশ্মীরি যুবকদের নেতৃত্বে সন্ত্রাসবাদের একটি নতুন তরঙ্গ পুনরুজ্জীবিত করার দায়িত্ব দেওয়া আন্তঃসীমান্ত অপারেশনাল শ্রেণিবিন্যাসে নিজেকে অন্তর্ভুক্ত করার একটি সচেতন প্রচেষ্টা চলছিল।
তদন্তকারীরা বলছেন যে বিদেশী হ্যান্ডলাররা কেবল আদর্শগত দিকনির্দেশনাই দেয়নি, বরং প্রযুক্তিগত দক্ষতাও দিয়ে যাচ্ছিল। যার মধ্যে রয়েছে দূরবর্তী আইইডি আক্রমণ সমন্বয়, রসদ ব্যবস্থাপনা এবং প্রতিকূল বিদেশী অবস্থান থেকে প্রশিক্ষণ সহায়তা পাওয়ার জ্ঞান। এটি তাকে গোপন, পেশাদার নেটওয়ার্কের মাধ্যমে ভারতে তাদের নেটওয়ার্ক বাড়িয়ে তোলা আন্তর্জাতিক গোষ্ঠীগুলির কাছে একটা মূল্যবান সম্পদ হয়ে উঠেছিল।
কর্মকর্তারা বলছেন, সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলির মধ্যে একটি হল রাঠের সাধারণ চিকিৎসা পেশাদারদের – নিউরোসার্জন, সার্জন, লেকচারার, এমনকি একজন ধর্মযাজক – – কে জেইএম এবং এজিইউএইচ-এর সঙ্গে যুক্ত একটি অত্যাধুনিক হোয়াইট-কলার সন্ত্রাসী মডিউলে পরিণত করার ক্ষেত্রে সাফল্য পেয়েছেন। যাদের তিনি নিয়োগ করেছেন বলে মনে করা হয় তাদের মধ্যে নিউরোসার্জন ডাঃ মাসুদ এবং সার্জন ডাঃ জহুরের মতো সিনিয়র ডাক্তারও রয়েছেন। আল-ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ে তিনি পড়াশোনার আড়ালে একাডেমিক কক্ষ ব্যবহার করে শিক্ষার্থীদের লক্ষ্যবস্তু করেছিলেন। একই সঙ্গে চালিয়ে যাচ্ছিলেন উগ্র প্রচার এবং তথ্যচিত্র প্রদর্শন।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন কারণ রাঠেরের মডিউল সদস্যদের, যাদের ডিজিটাল নেটওয়ার্ক এবং সেফ-হাউস নেটওয়ার্ক সম্পর্কে বিস্তারিত জ্ঞান রয়েছে। সূত্র জানায়, বিস্ফোরক রসায়ন এবং গোপন যোগাযোগ প্রোটোকল সম্পর্কে তার বোধগম্যতা তাকে ” অত্যন্ত উচ্চ-ঝুঁকিপূর্ণ অপারেশনাল কোঅর্ডিনেটর” করে তোলে। তাই তাঁর বিদেশে পালানোকে গুরুত্বের সঙ্গে দেখছেন গোয়েন্দারা। কারন যতক্ষণ তিনি বিদেশে থাকবেন, দূর থেকে ভারতে সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে।
