নিজস্ব সংবাদদাতা : সাংবাদিকদের রুখতে অভিনব কৌশল নিল দিল্লি পুলিশ। সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে সরাসরি সংঘাতে না গিয়ে ঘুরপথে সাংবাদিকদের কাজে বেড়ি পরাতে চাইলো তারা। এই মর্মে দিল্লি পুলিশ একটি নির্দেশিকা জারি করেছে, গণমাধ্যমকর্মীদের নিশ্চিত করতে হবে যেন তাদের উপস্থিতি ও কার্যকলাপ পুলিশের কার্যপ্রক্রিয়া বা চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে। সেইসঙ্গে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহকারী সাংবাদিকদের বৈধ পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখা, উত্তেজনাকর পরিস্থিতি থেকে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা এবং পুলিশের কাজে বাধা না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অতিরিক্ত ডিসিপি মনজিৎ শিওরান জানিয়েছেন, কিছু বিক্ষোভকারী সাংবাদিকের ছদ্মবেশ ধারণ করে এবং পরে তাদের আটক করা হয়। এই প্রসঙ্গে এক্স-এ একটি পোস্টে দিল্লি পুলিশ বলেছে, “সাংবাদিকতার নিজস্ব ভূমিকা রয়েছে; সাংবাদিকতা বাধাগ্রস্ত হওয়া উচিত নয়।”
শিওরান জানিয়েছেন, কিছু ব্যক্তি একদিন সাংবাদিক হিসেবে আসেন এবং পরদিন বিক্ষোভে অংশ নেন, যার ফলে তাঁদের আটক করা হয়। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বারবার এমন ব্যক্তিদের দূর থেকে বিক্ষোভের খবর সংগ্রহের আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু তারা পরে কর্তব্যরত পুলিশের কাজে বাধা দিতে থাকে।
ওই নির্দেশিকায় দিল্লি পুলিশ সাংবাদিকদের তাদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের দেওয়া বৈধ পরিচয়পত্র অথবা বৈধ পিআইবি / ডিআইপি অ্যাক্রিডিটেশন কার্ড সঙ্গে রাখতে বলেছে। সেইসঙ্গে বিক্ষোভস্থলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাঁদের যাতে সহজে শনাক্ত করতে পারে তার জন্য পরিচয়পত্র গলায় ঝুলিয়ে রাখতে বলা হয়েছে।
নির্দেশিকায় আরও বলা হয়েছে, গণমাধ্যমকর্মীদের নিশ্চিত করতে হবে যেন তাদের উপস্থিতি ও কার্যকলাপ পুলিশের কার্যক্রম বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চলাচলে কোনো বাধা সৃষ্টি না করে। উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে, খবর সংগ্রহ ও দৃশ্য ধারণকারী সাংবাদিকদের ঘটনাস্থল থেকে একটি যুক্তিসঙ্গত ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, তাদের এমনভাবে অবস্থান করতে বলা হয়েছে যাতে বিক্ষোভকারীদের থেকে তাদের স্পষ্টভাবে আলাদা করা যায়।
বিক্ষোভস্থলে পুলিশ মোতায়েনের প্রেক্ষাপটে এই নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে, যেখানে সাংবাদিকদের প্রায়শই উত্তেজনাকর ও জনাকীর্ণ পরিস্থিতিতে কাজ করতে হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, এই পদক্ষেপগুলোর উদ্দেশ্য হল সাংবাদিকদের শনাক্তকরণ সহজ করা এবং নিশ্চিত করা যে গণমাধ্যমকর্মীরা যেন পুলিশের কার্যক্রম বা নিরাপত্তা কর্মীদের চলাচলে কোনো ব্যাঘাত না ঘটান।