মশা মারতে কামান দাগা চলবে না
আজকাল পুলিশ প্রশাসনের মধ্যে অদ্ভুত একটা প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। কোনো মিটিং-মিছিল, কোনো ভিআইপি-র যাতায়াত কিংবা সামান্যতম ঝুটঝামেলা হলেই পুরো রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া একটা সাধারণ রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন কি কখনও কখনও তাদের অতি দূরদর্শিতার কারণে এক একটি এলাকায় কার্যত বন্ধের চেহারা নিতেও দেখা যায়। এটা যেন দায়িত্বশীল পুলিশের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে নির্ঝঞ্ঝাট কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেখে মনে হয়, কী না পারদর্শী তারা। সাধারণ মানুষের মুখে রা কাটার জো নেই। যত হলে ওরা রক্ষক। মানুষের যতই আপদকালীন কাজ থাকুক না কেন, তাতে পুলিশের কি যায় আসে। তাদের একটাই লক্ষ্য, ঝুটঝামেলা এড়াতে মানুষকেই বাড়িতে আটকে রাখলেই মিটে যায়। প্রশ্ন হল, তাহলে এই শ্রেণির রক্ষকদের রাখাই বা কেন ? তার বদলে কয়েকটা চৌকিদার বসিয়ে দিলেই হয়। অথচ পুলিশের কাজ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ মানুষের যতটা সম্ভব সহায়তা করা। কিন্তু তার জন্য রাস্তায় নেমে ঝামেলা পোহাতে আর কে চায়। তারচেয়ে হাটে বাজারে, কিংবা মালবাহী যান চলাচলে তাদের তৎপরতা অনেক বেশি। কার্যত এমন একটা পরিস্থিতির সম্ভাবনায় দিল্লি পুলিশ রাজধানী জুড়ে যান চলাচল স্তব্ধ করে দিতে চেয়েছিল। এমন কি রেল, মেট্রোও বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি পুলিশ। তাই নিয়ে মামলা হয় সুপ্রিম কোর্টে। সেখানে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ তীব্র প্রতিক্রিয়া দেয়। বলে, “কোনও কিছুকে ‘নিয়ন্ত্রণ’ করা আর সবকিছু ‘বন্ধ’ করে দেওয়ার মধ্যে আকাশ-পাতাল ফারাক। আপনারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন, কিন্তু এভাবে স্তব্ধ করে দিতে পারেন না। মশা মারতে কামান দাগা বা হাতুড়ি ব্যবহার করা চলবে না”। আসলে শনিবার দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টি ও আইসা-র প্রস্তাবিত ‘বিক্ষোভ’-কে কেন্দ্র করে কেন্দ্রীয় সরকার ও দিল্লি পুলিশের জারি করা গণপরিবহন নিষেধাজ্ঞায় বড় হস্তক্ষেপ করল সুপ্রিম কোর্ট। শুক্রবার শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, নিরাপত্তা ও বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণের নামে লক্ষ লক্ষ সাধারণ মানুষের যাতায়াত স্তব্ধ করে পুরো মেট্রো ও রেল পরিষেবা বন্ধ করা যাবে না। এরপর কি টনক নড়বে উর্দিধারীদের ? অভ্যাস তো দীর্ঘদিনের !