নিজস্ব সংবাদদাতা: নিষেধাজ্ঞার বেড়াজাল টপকে ফের রাশিয়ার দিকেই হাত বাড়াল আমেরিকা। বিপুল পরিমাণ ডিজেল কিনতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সরাসরি চুক্তি সেরে ফেললেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। দেশের বাজারে জ্বালানির আগুন নেভাতেই এই পদক্ষেপ, এমনটাই দাবি হোয়াইট হাউসের। তবে ট্রাম্পের এই ইউ-টার্নে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
২০২২ সালে ইউক্রেনে হামলার পর থেকেই রাশিয়ার উপর একের পর এক নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে আসছে আমেরিকা-সহ পশ্চিমী দুনিয়া। শুক্রবার সেই নিষেধাজ্ঞাই শিথিল করার কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। তিনি জানান, পুতিনের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, রাশিয়া অবিলম্বে ৩ লক্ষ টন ডিজেল আমেরিকা ও বিশ্ববাজারে সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লক্ষ টন এবং তার পরে আরও ১০ লক্ষ টন ডিজেল পাঠাবে মস্কো। ক্রেমলিনের তরফেও জানানো হয়েছে, বিশ্ববাজারে ডিজেলের জোগান দিতে তারা প্রস্তুত।
আমেরিকায় গত ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাসোলিন ও ডিজেলের দাম লাগাতার বাড়ছে। জ্বালানির দাম বাড়ায় নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দামও আকাশছোঁয়া। সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ বাড়ছে। কয়েক সপ্তাহ পরেই আমেরিকায় গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন, যেখানে খারাপ ফল হলে কংগ্রেসে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারাতে পারে ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ভোটের মুখে জনরোষ সামাল দিতেই তড়িঘড়ি রাশিয়ার সঙ্গে এই চুক্তি করলেন ট্রাম্প।
যদিও অনেকের প্রশ্ন, ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানে আমেরিকা ও ইজরায়েলের হামলার জেরেই বিশ্বজুড়ে জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, ট্রাম্প কেন সেই সংকটের দিকে না তাকিয়ে রাশিয়ার উপরেই ভরসা করলেন?
এই চুক্তি নিয়ে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে ভারত প্রসঙ্গে। রাশিয়া থেকে তেল কেনার অভিযোগে ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। যুক্তি ছিল, ভারতের টাকা রাশিয়া যুদ্ধে ব্যবহার করছে। নয়াদিল্লি বরাবরই সেই অভিযোগ উড়িয়ে বলেছে, তাদের বাণিজ্যনীতি জাতীয় স্বার্থ ও বিশ্ববাজারের উপর নির্ভরশীল। এখন আমেরিকা নিজেই রাশিয়ার থেকে ডিজেল কিনতে যাওয়ায় সেই দ্বিচারিতা নিয়েই প্রশ্ন উঠছে।
এমতাবস্থায় ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে ‘দুর্বল এবং অযোগ্য’ বলে তীব্র কটাক্ষ করেছেন জেলেনস্কি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, “পুতিনকে উপহার দিলে শান্তি আসবে না। রাশিয়া এর বদলে আরও সন্ত্রাস ও বিশ্বাসঘাতকতা উপহার দেবে। ওদের পেট্রোলিয়াম পণ্য বিক্রির সুযোগ করে দেওয়া মানে যুদ্ধেই বিনিয়োগ করা। রাশিয়ার সঙ্গে উত্তেজনা কমাতে প্রকৃত পদক্ষেপ দরকার, দুর্বল আলোচনায় লাভ হবে না।”