তাপস মহাপাত্র
ঘুরপথে ১৬ অক্টোবর ককরোচদের ডাকা প্রতিবাদ কর্মসূচি বানচাল করার কৌশল ভেস্তে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। এমনিতেই ১০ অক্টোবর ককরোচ জনতা পার্টির ডাকে যন্তর মন্তর কর্মসূচি ঘিরে পুলিশের অতি তৎপরতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। এমন কি সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করার দায়ে কৈফিয়ত দিতে হয়েছে কেন্দ্রকে। আদলতে নিঃশর্ত ক্ষমা চেয়েছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব গোবিন্দ মোহন।
এমন পরিস্থিতিতে ফের ককরোচদের ডাকা কর্মসূচি নিষিদ্ধ করার আবেদনে আদালতের সায় মিললো না দিল্লি পুলিশের। ১৬ অক্টোবর কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র প্রতিবাদ কর্মসূচি। সেই আয়োজনে বাধা দিতে অস্বীকার করল দিল্লি হাইকোর্ট। তবে, তাদের কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনার জন্য সম্ভাব্য সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে—পুলিশের দেওয়া এই নিশ্চয়তাকে আদালত নথিবদ্ধ করেছে। বৃহস্পতিবার কনট প্লেসের এক বিক্রেতার দায়ের করা আবেদনের শুনানি চলে দিল্লি হাইকোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি নীতিন বাসুদেও সামব্রে এবং বিচারপতি সঞ্জয় শর্মার বেঞ্চে। আবেদনে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশিত আইন অনুযায়ী এই প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণের জন্য পুলিশকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানানো হয়েছিল।
আবেদনকারীর পক্ষে আইনজীবী আদালতে জানান, উৎসবের মরসুমে মধ্য দিল্লিতে প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে যদি আরও একটি সপ্তাহান্তে দোকানপাট বন্ধ থাকে, তবে ব্যবসার প্রভূত ক্ষতি হবে। পথে বসবেন তাঁরা। তখন অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা জানান, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’-র কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশ্বস্ত করেন, আবেদনকারীর উদ্বেগগুলো বিবেচনায় রাখা হবে। আদালত পুলিশের এই নিশ্চয়তাকে নথিবদ্ধ করেছে। যদিও আবেদনকারীর আইনজীবী সিজেপি-র কর্মসূচি পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার জন্য একটি ‘সুনির্দিষ্ট’ নির্দেশ জারির অনুরোধ জানিয়েছিলেন। এর প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, “জোর করবেন না। আমরা ইতিমধ্যে আদেশ দিয়ে দিয়েছি।”
বৃহস্পতিবার সকালে বিষয়টি আদালতে ওঠার সময় আবেদনকারীর আইনজীবী বলেছিলেন, “কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কের প্রাণকেন্দ্রে একটি প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছে। মনে হচ্ছে আমাদেরই লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। এটি প্রতিবাদের জন্য উপযুক্ত জায়গা নয়। তারা ইতিমধ্যেই দোকানপাট বন্ধ করতে শুরু করেছে। এখন দশেরার সপ্তাহান্ত চলছে। এই প্রতিবাদ কর্মসূচি বন্ধ হওয়া প্রয়োজন।” এর প্রেক্ষিতেই পুলিশ হাইকোর্টকে আশ্বস্ত করে যে সেদিন ককরোচের কর্মসূচি সামাল দিতে তারা ‘সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ’ গ্রহণ করবে। আদালতে পুলিশের এই আশ্বাস আদালত নথিভুক্ত করেছে।
এদিকে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে অভিযোগ করেছেন, তাঁদের নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে কেবল ‘ত্রিরঙা পতাকা ওড়ানোর অপরাধে’ কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাই ১৬ অক্টোবর সমস্ত দেশপ্রেমিককে জাতীয় পতাকা হাতে এই কর্মসূচিতে সামিল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে তিনি। এদিকে, সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে তিহার জেলে পাঠানো হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, ‘শান্তি বজায় রাখার মুচলেকা’ লঙ্ঘন করে তাঁরা যন্তর মন্তরে অনধিকার প্রবেশ করেছেন। কারণ, ওই জায়গা এখন আর বিক্ষোভ প্রদর্শনের স্থান হিসেবে গণ্য করা হয় না।
এমন পরিস্থিতিতে ‘দেশপ্রেমিক’দের জাতীয় পতাকা হাতে কনট প্লেসে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। তাঁর দাবি, সিজেপি সদস্য সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে ‘ত্রিরঙা পতাকা ওড়ানোর কারণেই’ জেলে পাঠানো হয়েছে। পাঁচ দিনের বিচার বিভাগীয় হেফাজতে তাঁদের রাখা হয়েছে তিহার জেলে। দীপকে বলেছেন, তাঁরা প্রমাণ করে দেবেন যে তেরঙা পতাকা ওড়ানো কোনো অপরাধ নয়। যাঁরা দিল্লিতে আসতে পারছেন না, তাঁদের নিজ নিজ শহরে ‘তেরঙা মিছিল’ আয়োজন করার আহ্বান জানিয়েছেন দীপকে। এছাড়া, তিনিও কারাবন্দি হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তবে তিনি এ নিয়ে বিচলিত নন বলে জানিয়ে দিয়েছেন। তাঁর সাফ কথা, “তেরঙা পতাকা আমার গর্ব, আর আমি তা অবশ্যই উঁচিয়ে ধরব।”