ওঙ্কার ডেস্ক : সিয়াটেলের সবচেয়ে বিখ্যাত নগ্ন সৈকত ডেনি ব্লেইন পার্ক এখন আইনি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু। দীর্ঘদিন ধরে এই পার্ক ছিল এলজিবিটিকিউ প্লাস সম্প্রদায়ের জন্য এক নিরাপদ, উন্মুক্ত আশ্রয়স্থল যেখানে শরীরী স্বাধীনতার জায়গা। কিন্তু সোমবার কিং কাউন্টি সুপিরিয়র কোর্টের বিচারক স্যামুয়েল চাং সিয়াটেল নগর প্রশাসনকে নির্দেশ দেন, দুই সপ্তাহের মধ্যে নগ্নতা, জনসমক্ষে যৌনতা ও হস্তমৈথুন বন্ধে একটি কার্যকরী পরিকল্পনা জমা দিতে হবে।“ এই পার্কে যেভাবে প্রকাশ্যে নগ্নতা পালন করা হয়ে এসেছে সেটি এলাকার মানুষজনদের সাধারন জীবন যাপন ব্যহত করেছে”, মন্তব্য করেন বিচারক চাং।
ডেনি ব্লেইন এলাকার কিছু বাসিন্দা এই কর্মকান্ডে অতিষ্ট হয়ে মামলা দায়ের করেছিল আর সেই মামলার প্রেক্ষিতে রায় দিয়েছেন বিচারপতি। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, পার্কটিতে নিয়মিত মাদক সেবন, যৌনতা ও প্রকাশ্য হস্তমৈথুনের ঘটনা ঘটছে এবং শহর প্রশাসন একে উপেক্ষা করে চলেছে। তাঁরা এমনকি পার্কটি সাময়িকভাবে বন্ধ করার আবেদনও করেন আদালতের কাছে।

ডেনি ব্লেইন পার্কে নগ্নতা বহু দশকের প্রথা। পার্ক রক্ষা করতে গড়ে ওঠা সংগঠন ‘ফ্রেন্ডস অফ ডেনি ব্লেইন পার্ক’-এর সহ-নেত্রী সোফি অ্যামিটি ডেবস এই রায়কে বলেন, “বিজ্ঞান না জেনেই এই বিচার করা হয়েছে”।তিনি আরও বলেন, “একসময় আমরা সমকামী হওয়ার গর্ববোধ করতাম। নিজের প্রকাশ্যে আনতে পিছু হটতাম না।কিন্তু এখন আমাদের সেই স্বাধীনতা আদালতের রাইয়ের উপর নির্ভর করেছে”।
এর পালটা জবাবে নগর প্রশাসনের আইনজীবীরা যুক্তি দেন, নগ্নতা নিজে অপরাধ নয়, যতক্ষণ না তা জনমনকে ‘আক্রমণ’ করে বা ‘অশ্লীলতা’র পর্যায়ে যায়। তাঁরা বলেন, ডেনি ব্লেইন পার্ককে নগ্ন সৈকত হিসেবে রাখার মধ্যেই ‘পাবলিক ইন্টারেস্ট’ বা জনস্বার্থ রয়েছে। তবে প্রতিবেশীদের আইনজীবী প্যাট স্নাইডার পাল্টা অভিযোগ তোলেন “গত দু’বছর ধরে শহরকে অনুরোধ করা হচ্ছে এই পার্কের জনউপদ্রব বন্ধ করতে। কিন্তু অবস্থা শুধু খারাপ থেকে আরও খারাপ হয়েছে।” এদিন রায়ে পার্ক পুরোপুরি বন্ধ করার কোনও নির্দেশ দেননি বিচারক চাং। বরং তিনি সিয়াটেল সিটি প্রশাসনকে হুঁশিয়ারি দেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্টুয়ার্ট স্লোন যিনি পার্কের নিকটতম বাসিন্দা, তিনি এই মামলার কেন্দ্রে রয়েছেন। পেশায় তিনি একজন ধনী ব্যবসায়ী। সূত্রের খবর ২০২৩ সালে ব্লেইন পার্কে বাচ্ছাদের একটি খেলার মাঠ তৈরি করে নগ্নতা বন্ধ করতে বিপুল অর্থদান করেন তিনি। এমনকি মেয়র ব্রুস হ্যারেল-এর সঙ্গে সরাসরি কথাও বলেছেন বারংবার এর পরও কোনো কাজ না হওয়ায় তিনি বাকি এলাকাবাসীদের সঙ্গে আদালতের দারস্থ হন। এরপরই অভিযোগ ওঠে ধনীর দাপটে এলজিবিটিকিউ প্লাস সম্প্রদায়ের একটি ঐতিহ্যবাহী জায়গা ছিনিয়ে নেওয়া হচ্ছে। তাই অনেকের মতে, এই মামলা একটি “ট্রয়ান হর্স”, যার মূল উদ্দেশ্য নগ্নতা নয়, বরং একটি ভিন্ন জীবনচর্চার পরিসরকে একেবারে শেষ করে দেওয়া ।

ওয়াশিংটনের ২ একরের এই ছোট্ট সমুদ্রসৈকতের লড়াই এখন সিয়াটেলের মানুষ সাধারন জীবন ব্যহতের বিতর্কে ঢুকে পড়েছে। এ প্রসঙ্গে ‘ডেনি ব্লেইন পার্ক ফর অল’ সংগঠনের মুখপাত্র লি কেলার বলেন, “এই আদেশ দরকার ছিল বহু আগেই। অবশেষে জননিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব নিতে হচ্ছে শহরকে”। পরবর্তী শুনানি ২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে নির্ধারিত হয়েছে যদি না তার আগেই পক্ষগুলি মীমাংসায় পৌঁছয়। কিন্তু ততদিন, নগ্নতার ‘স্বাধীনতা’ আর কতটা টিকবে, তা এখন প্রশ্নের মুখে।
