শীতের বাগানকে রঙিন করে তুলতে ডায়ান্থাস একটি দারুণ পছন্দ। গোলাপি, লাল, সাদা, বেগুনি নানা রঙের সুন্দর ফুলে গাছ ভরে যায়। বীজ থেকে সহজেই ডায়ান্থাসের চারা তৈরি করা যায়। তবে সঠিক সময়ে বীজ বোনা এবং নিয়ম মেনে পরিচর্যা করলেই সুস্থ গাছ ও প্রচুর ফুল পাওয়া সম্ভব।
বীজ বোনার উপযুক্ত সময়
ডায়ান্থাস মূলত শীতকালীন ফুলের গাছ। ভারতের সমতল অঞ্চলে সাধারণত বর্ষার শেষ থেকে শরতের শুরু, অর্থাৎ আগস্ট থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত বীজ বোনার উপযুক্ত সময়। খুব বেশি গরম বা অতিরিক্ত বৃষ্টির সময় বীজ বোনা এড়িয়ে চলাই ভালো। ঠান্ডা আবহাওয়ায় বীজ থেকে চারা দ্রুত ও স্বাস্থ্যকরভাবে বেড়ে ওঠে।
কীভাবে চারা তৈরি করবেন
বীজ বোনার জন্য ঝুরঝুরে ও জল নিষ্কাশনের উপযোগী মাটি ব্যবহার করুন। মাটির সঙ্গে পচা গোবর বা ভার্মিকম্পোস্ট এবং কিছুটা বালি বা কোকোপিট মিশিয়ে নিতে পারেন। বীজগুলো মাটির উপর ছড়িয়ে দিয়ে তার ওপর খুব পাতলা করে মাটি বা কোকোপিট দিন। এরপর স্প্রে করে হালকা জল দিন। টব বা সিড ট্রে এমন জায়গায় রাখুন যেখানে সকালের নরম রোদ ও পর্যাপ্ত আলো পাওয়া যায়। সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যেই বীজ অঙ্কুরিত হতে শুরু করে।
চারা একটু বড় হয়ে ৪–৬টি পাতা বের হলে সাবধানে আলাদা টবে বসাতে পারেন। টবে যেন অবশ্যই ড্রেনেজের ছিদ্র থাকে।
সুস্থ গাছের পরিচর্যা
ডায়ান্থাস গাছের জন্য পর্যাপ্ত আলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিন প্রায় ৪–৬ ঘণ্টা রোদ পেলে গাছ ভালোভাবে বেড়ে ওঠে এবং ফুলের কুঁড়ি বেশি আসে। মাটি একেবারে শুকিয়ে গেলে জল দিন, তবে টবে জল জমতে দেবেন না। অতিরিক্ত জল শিকড় পচিয়ে দিতে পারে।
প্রতি ১৫–২০ দিন অন্তর অল্প পরিমাণে জৈব সার বা ফুলের গাছের উপযোগী সুষম সার দিতে পারেন। গাছের গোড়ায় শুকনো পাতা বা আগাছা জমতে দেবেন না এবং বাতাস চলাচলের জন্য গাছের চারপাশে পর্যাপ্ত জায়গা রাখুন।
প্রচুর ফুল পাওয়ার কৌশল
গাছে ফুল ফুটতে শুরু করলে শুকিয়ে যাওয়া ফুল নিয়মিত তুলে দিন। এতে গাছ নতুন কুঁড়ি তৈরিতে উৎসাহিত হয়। গাছের ডগা খুব বেশি লম্বা হয়ে গেলে হালকা pinching বা ডগা ছাঁটাই করলে পাশ থেকে নতুন শাখা বের হয় এবং তুলনামূলকভাবে বেশি ফুল পাওয়া যায়।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো—পর্যাপ্ত রোদ, পরিমিত জল, নিয়মিত সার এবং শুকনো ফুল অপসারণ। এই কয়েকটি বিষয় ঠিকভাবে মেনে চললেই শীতের মরশুমে আপনার ডায়ান্থাস গাছ সুন্দর ও প্রচুর ফুলে ভরে উঠতে পারে।