ওঙ্কার ডেস্ক: বাংলাদেশে একজন হিন্দু ব্যক্তির ‘ভয়াবহ’ গণপিটুনির নিন্দা জানিয়েছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। অন্যদিকে কংগ্রেস সদস্য রো খান্না এই ঘটনাওকে ধর্মীয় বিদ্বেষের নিন্দনীয় ঘটনা বলে সমালোচনা করেছেন। উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৮ তারিখে বাংলাদেশের ময়মনসিংহে দীপুচন্দ্র দাস নামের একজন শ্রমিককে ইসলাম ধর্মের বিরুদ্ধে অবমাননা করার মিথ্যা অভিযোগে গণপিটুনি দিয়ে মেরে তারপর তার দেহ গাছে ঝুলিয়ে আগুনে পুরিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। এই ঘটনার সমালোচনা করেছে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ।
এই ঘটনার প্রতিধ্বনি পৌঁছে যায় আন্তর্জাতিক মহলেও। আমেরিকার স্টেট ডিপার্টমেন্ট এই ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে আখ্যা দিয়ে ধর্মীয় সহিংসতার তীব্র নিন্দা করেছে। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ধর্মের ভিত্তিতে হিংসা কোনওভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। পাশাপাশি, আমেরিকার কংগ্রেসের একাধিক সদস্য প্রকাশ্যে এই ঘটনাকে ‘চরম ধর্মীয় বিদ্বেষের উদাহরণ’ বলে উল্লেখ করেন। তাঁদের মতে, বাংলাদেশের মতো একটি দেশের মধ্যে বারবার এই ধরনের ঘটনা গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য গুরুতর প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে।
শুধু আমেরিকাই নয়, ইউরোপ ও দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও এই ঘটনা নিয়ে প্রতিবাদ দেখা গেছে। লন্ডনসহ একাধিক শহরে প্রবাসী বাংলাদেশি ও মানবাধিকার কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান। ভারতেও দিল্লি ও কলকাতায় বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা নিহত যুবকের জন্য ন্যায়বিচার এবং বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি তোলেন।
বাংলাদেশ সরকারের তরফে বলা হয়েছে, ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলির দাবি, এটি কোনও একক ঘটনা নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলিতে ধর্ম অবমাননার অভিযোগকে সামনে রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের উপর একাধিক হামলার ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের সামাজিক স্থিতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলেই মত বিশেষজ্ঞদের।
