ওঙ্কার ডেস্ক: একসময় দু’বেলা খাবার জোগাড় করাই ছিল কঠিন। কাজের সন্ধানে ঘুরেও মিলত না জীবিকা। রূপান্তরকামী নারী হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর পরিবারের সঙ্গেও বিচ্ছেদ ঘটে। কিন্তু কোনও বাধাই দমাতে পারেনি চিকিৎসক কোয়ালা রুথ জন পলকে। নিজের লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসাশাস্ত্রে স্নাতকোত্তর ভর্তির নিয়মে রূপান্তরকামীদের জন্য স্পষ্ট নির্দেশিকা না থাকায় আইনি পথেও হাঁটেন তিনি। অবশেষে সেই দীর্ঘ সংগ্রামের পর এল সাফল্য।
সম্প্রতি প্রকাশিত এমডি/এমএস পরীক্ষার ফলাফলে সব বিষয়ে উত্তীর্ণ হয়েছেন রুথ। এর ফলে ভারতের প্রথম রূপান্তরকামী ব্যক্তি হিসেবে স্নাতকোত্তর মেডিক্যাল কোর্স সম্পূর্ণ করার নজির গড়েছেন তিনি। ২০২৩-২৬ শিক্ষাবর্ষে হায়দরাবাদের সনৎনগরের ইএসআইসি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল থেকে ‘ইমার্জেন্সি মেডিসিন’ বিষয়ে ডিগ্রি অর্জন করেছেন রুথ। এই সাফল্যে উচ্ছ্বসিত চিকিৎসক রুথ। তাঁর কথায়, “আমি ভীষণ আনন্দিত। এটা আমার এবং আমাদের সম্প্রদায়ের জন্য এক পরম গর্বের বিষয়। জীবনের এক বিরাট প্রাপ্তি।”
রিপোর্ট অনুসারে, তেলঙ্গানার খম্মাম জেলার একটি দরিদ্র পরিবারে জন্ম রুথের। তিন ভাইবোনের মধ্যে তিনি সবচেয়ে ছোট। মাত্র আট বছর বয়সে বাবাকে হারান। এরপর মায়ের কাছেই বড় হয়ে ওঠেন তিনি। নিজের জেলাতেই স্কুল ও ইন্টারমিডিয়েটের পড়াশোনা শেষ করেন রুথ। পরে নিট পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে মেডিক্যালের স্নাতক স্তরে ভর্তি হন। সেই সময়ই নিজেকে রূপান্তরকামী নারী হিসেবে পরিচয় দেন তিনি। কিন্তু তাঁর এই পরিচয় মেনে নিতে পারেনি পরিবার। প্রায় ছ’বছর পরিবারের সঙ্গে কোনও যোগাযোগ ছিল না তাঁর।প্রবেশিকা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরেও বাধা কাটেনি। স্নাতকোত্তর মেডিক্যাল কোর্সে ভর্তির কাউন্সেলিংয়ের সময় সমস্যায় পড়েন রুথ। কারণ, রূপান্তরকামী প্রার্থীদের ভর্তির বিষয়ে তখন স্পষ্ট কোনও প্রোটোকল ছিল না। এই পরিস্থিতিতে রূপান্তরকামী অধিকারকর্মী বৈজয়ন্তী বসন্ত মোগলির সাহায্য নেন তিনি। এরপর ভর্তির সুযোগ চেয়ে তেলঙ্গানা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন রুথ। প্রায় দু’বছর ধরে চলে আইনি লড়াই।
শেষ পর্যন্ত হাই কোর্টের অন্তর্বর্তিকালীন নির্দেশে তাঁর ভর্তির পথ খুলে যায়। ২০২৩ সালে সনৎনগরের ইএসআইসি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে ‘ইমার্জেন্সি মেডিসিন’ বিভাগে পড়ার সুযোগ পান তিনি।