ওঙ্কার ডেস্ক: পরপর দুই ক্যাবচালকের খুনের ঘটনায় রহস্যের জট খুলল। একই কায়দায় দুই চালককে খুনের তদন্তে নেমে সিরিয়াল কিলিংয়ের সূত্র পান তদন্তকারীরা। মাত্র দু’দিনের মধ্যে ঘটনার কিনারা করে কলকাতা পুলিশ ও চন্দননগর কমিশনারেট। সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে তিন অভিযুক্তকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়েছে।
তদন্তকারীদের দাবি, ধৃতদের মূল উদ্দেশ্য ছিল ডাকাতি।
পুলিশ সূত্রে খবর, ধৃত তিনজন উত্তর শহরতলিতে একটি লুঠেরা চক্র চালাত। যাত্রী সেজে ক্যাব ভাড়া করত তারা। এরপর নির্জন জায়গায় চালকদের খুন করে মোবাইল, সোনার গয়না ও নগদ টাকা লুট করত।
ধৃতদের মধ্যে একজন গাড়ি চালাতে জানে। অতীতে সে নিজেও চালকের কাজ করত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, রাতের অন্ধকারে কল্যাণী এক্সপ্রেসওয়ের নির্জন এলাকায় চালকদের খুন করা হত। পরে ক্যাবগুলি কলকাতায় এনে ফেলে রেখে পালিয়ে যেত অভিযুক্তরা। তবে গাড়িগুলি স্ক্র্যাপ হিসেবে বিক্রি করার সুযোগ তারা পায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে, ধৃতদের নাম শেখ আরিয়ান, শেখ মনিরুল ও শেখ সাহাদাত। তাদের মধ্যে একজন উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা। বাকি দু’জন থাকত সোদপুরে। মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা হওয়ার কারণে বিরাটি ও মধ্যমগ্রাম এলাকার ক্যাবচালকদেরই তারা মূলত নিশানা করত বলে তদন্তকারীদের অনুমান। গত ৬ অক্টোবর ডানকুনির ভাদুয়ায় এক ব্যক্তির পা বাঁধা দেহ উদ্ধার হয়। মৃতের নাম রামজি কইরি। তিনি বিরাটির ক্যাবচালক ছিলেন। পরে মল্লিকবাজারের কাছে তাঁর ক্যাবটি উদ্ধার করা হয়। এর পরের দিন সকালে পূর্ব কলকাতার এন্টালি এলাকা থেকে উদ্ধার হয় আর এক ক্যাবচালক ভগবানপ্রসাদ গুপ্তার দেহ। তিনি মধ্যমগ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। পরপর দুই চালকের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তে নামে পুলিশ।
কলকাতা ও ডানকুনির বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি মোবাইল ফোনের সূত্রও পরীক্ষা করেন তদন্তকারীরা। সেই সূত্র ধরেই তিন অভিযুক্তের পরিচয় সামনে আসে।