নয়াদিল্লি: মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের অপসারণের দাবিতে রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমার পর এবার দিল্লিতে বাড়ির সামনে ধর্নায় বসে আটক হলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার সকালে তাঁকে প্রিজন ভ্যানে তুলে নিয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। মমতার সঙ্গে আটক করা হয়েছে দোলা সেন, প্রতিমা মণ্ডল, ডেরেক ও’ব্রায়েন, শামিরুল ইসলাম এবং সাকেত গোখলেকে।
এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মমতা শিবিরের বিধায়ক কুণাল ঘোষ। এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘‘দিল্লিতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাড়ি থেকে বেরোতে দেওয়া হচ্ছে না। পুলিশ আটকে দিয়েছে। কোনও রকম প্রতিবাদও করতে দেওয়া হচ্ছে না। তিনি সাংসদদের নিয়ে বাড়ির সামনেই বসে পড়েছেন।’’ এর কিছুক্ষণের মধ্যেই তাঁকে আটক করা হয় বলে খবর।
জানা গিয়েছে, ইন্ডিয়া জোটের কর্মসূচি অনুযায়ী আজ নির্বাচন কমিশনের দফতরের সামনে বিক্ষোভ দেখানোর পরিকল্পনা ছিল বিরোধীদের। কিন্তু তার আগেই মমতার দিল্লির বাসভবনের সামনে ব্যারিকেড করে দেয় পুলিশ। বাইরে বেরোতে বাধা দেওয়া হলে বাড়ির সামনেই রাস্তায় বসে প্রতিবাদ শুরু করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ‘বেআইনি ও স্বেচ্ছাচারী কার্যকলাপে’ অভিযুক্ত মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ চেয়ে শুক্রবার রাত ৮টায় রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে স্মারকলিপি জমা দেয় ইন্ডিয়া জোট। প্রতিনিধি দলে রাহুল গাঁধী, মল্লিকার্জুন খড়্গে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাড়াও ছিলেন প্রিয়াঙ্কা গাঁধী, ওমর আবদুল্লা, তেজস্বী যাদবরা। বৈঠকের পর রাহুল দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি তাঁদের ভোটচুরির অভিযোগ খণ্ডন করেননি।
এর আগে আজ সকালে মমতার পাশাপাশি আটক করা হয়েছে সিজেপি -র প্রতিষ্ঠাতা তথা আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে-কে। সৌরভ দাস, আশুতোষ রাঙ্কারাও বর্তমানে আটক। এখানেই শেষ না, আটকের তালিকায় রয়েছেন কেরলমের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন, সিপিএম নেত্রী বৃন্দা কারাট, রাজ্যসভার সাংসদ জন ব্রিট্টাস-সহ বহুজন।