ওঙ্কার ডেস্ক: মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে পাঁচটা নাগাদ পাঞ্জাবের পাটিয়ালার রাজেন্দ্র হাসপাতালের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাছে দেখা যায় এক ভয়াবহ দৃশ্য, একটি কুকুর সদ্যোজাত শিশুর মুণ্ডু মুখে নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এই দৃশ্য মোবাইলে ধারণ হয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই দেশজুড়ে শিউরে উঠেছেন সাধারণ মানুষ।
ঘটনার খবর পেয়ে তড়িঘড়ি হাসপাতালে পৌঁছায় পুলিশ। পাটিয়ালা থানার তরফে জানানো হয়েছে, হাসপাতালে জন্ম নেওয়া শিশুদের তথ্য যাচাই করা হচ্ছে এবং সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাগুলি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিশুটির মাথা ফরেনসিক টিমের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। হাসপাতালের সিসিটিভি ফুটেজও খতিয়ে দেখবে তদন্তকারীরা। এ ঘটনায় রাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রী বলবীর সিং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশকে পূর্ণাঙ্গ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, রাজ্য সরকার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছে।
রাজেন্দ্র হাসপাতালের মেডিক্যাল সুপারিনটেনডেন্ট ডা. বিশাল চোপড়া ইতিমধ্যেই একটি প্রাথমিক রিপোর্ট জমা দিয়েছেন। তাঁর দাবি, নবজাতক ওয়ার্ডে থাকা সবকটি শিশুই সুরক্ষিত রয়েছে এবং কোনও শিশু নিখোঁজ নয়। সম্প্রতি হাসপাতালে তিনটি নবজাতকের মৃত্যু হয়েছিল, তবে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাদের দেহ ইতিমধ্যেই পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ডা. চোপড়ার বক্তব্য, ‘‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে বাইরের কেউ শিশুর দেহ ফেলে রেখে গেছে।’’ পুলিশ সেই দিকেই তদন্ত শুরু করেছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সাধারণ মানুষ। গাফিলতির অভিযোগে ক্ষোভ ছড়িয়েছে। অভিযুক্তদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, এর আগেও একাধিক হাসপাতালে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কয়েক সপ্তাহ আগে উত্তরবঙ্গ মেডিক্যাল কলেজে করিডরে পড়ে থাকা এক ভবঘুরের দেহ টেনে খেতে দেখা গিয়েছিল কুকুরকে।গত বছর বাঁকুড়ার সোনামুখী হাসপাতালে একটি কুকুরকে সদ্যোজাত শিশুকে মুখে নিয়ে দৌড়তে দেখা যায়। প্রতিবারই হাসপাতালের নিরাপত্তা ও অব্যবস্থাপনাকে কাঠগড়ায় তুলেছেন স্থানীয়রা।
