ওঙ্কার ডেস্ক: ব্রিক্স সম্মেলন মঞ্চে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে একযোগে বার্তা দেওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পাল্টা হুঁশিয়ারি। সোমবার সকালে সামাজিক মাধ্যমে পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়ে দেন, ব্রিক্স-এর ‘আমেরিকাবিরোধী’ নীতির সঙ্গে যে সব দেশ যুক্ত থাকবে, তাদের উপর বাড়তি ১০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করবে আমেরিকা। ট্রাম্প বলেন, সোমবার বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শুল্ক-সংক্রান্ত নথি এবং বাণিজ্যচুক্তির কাগজ পাঠানো শুরু করবে তাঁর প্রশাসন। কোনও দেশ পাবে শুল্ক আরোপের চিঠি, কোনও দেশ পাবে সমঝোতার শর্তপত্র। ট্রাম্পের কথায়, ‘‘ব্রিক্স-এর আমেরিকাবিরোধী নীতি মেনে চললে অতিরিক্ত কর দিতে হবে। কোনও ব্যতিক্রম হবে না।’’
প্রসঙ্গত, দু’দিনের ব্রিক্স সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে ব্রাজ়িলের রিও ডি-জেনেইরো শহরে। উপস্থিত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সহ জোটের প্রাথমিক সদস্য দেশগুলি হল ভারত, চিন, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা। পরবর্তীতে এই গোষ্ঠীতে যোগ দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, ইরান, মিশর, ইথিওপিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া। এই সম্মেলনের মঞ্চ থেকে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দেন মোদী। পাকিস্তানের নাম করেই বলেন, ‘‘ভারত সন্ত্রাসের শিকার, পাকিস্তান সন্ত্রাসের মদতদাতা। এই দুই দেশকে এক পাল্লায় মাপা যায় না।’’ একইসঙ্গে মোদী জানান, অনেকেই রাজনৈতিক স্বার্থে সন্ত্রাস নিয়ে চুপ করে থাকেন, যা মেনে নেওয়া যায় না। এর পরেই ব্রিক্স এর যৌথ বিবৃতি প্রকাশিত হয়, যেখানে ২২ এপ্রিল জম্মু-কাশ্মীরে পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলার কড়া নিন্দা করা হয়েছে।
ঘোষণাপত্রে ইরান ইস্যুতে মার্কিন পদক্ষেপেরও সমালোচনা করা হয়েছে। লেখা হয়েছে, ‘‘গত ১৩ জুন ইরানের উপর যে সামরিক হামলা হয়েছে, তা আন্তর্জাতিক আইন ও রাষ্ট্রপুঞ্জ সনদের পরিপন্থী।’’ একইসঙ্গে বাণিজ্যে শুল্ক ও নানা নিষেধাজ্ঞামূলক পদক্ষেপ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, ‘‘এভাবে শুল্ক বাড়ানো বা অযৌক্তিক নিষেধাজ্ঞা বিশ্ব বাণিজ্যকে আরও অনিশ্চিত করে তোলে।’’ যদিও ঘোষণাপত্রে সরাসরি আমেরিকার নাম নেই, তবে শুল্ক নিয়ে আঙুল যে ট্রাম্প প্রশাসনের দিকেই তা স্পষ্ট।
আমেরিকায় দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প ভারত-সহ একাধিক দেশের উপর বাড়তি শুল্ক আরোপের পথে হেঁটেছেন। ভারতের উপর ২৬ শতাংশ কর চাপানো হয়েছিল, যা তিন মাসের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছিল। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে আগামী ৯ জুলাই। এই সময়ের মধ্যে নয়াদিল্লি-ওয়াশিংটন বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করতে একাধিক বৈঠক হলেও এখনও সমঝোতা চূড়ান্ত হয়নি। এরই মধ্যে ব্রিক্স এর মঞ্চ থেকে সন্ত্রাস, শুল্ক এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্ক নিয়ে বার্তা আদানপ্রদান ঘিরে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠল বৈশ্বিক বাণিজ্যের মঞ্চ। বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্রিক্স দেশগুলির মধ্যে যাদের অর্থনীতি আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত, তাদের জন্য এই বাড়তি শুল্কের সিদ্ধান্ত বড়সড় চাপে ফেলতে পারে। বিশেষত ভারত, যে একদিকে ব্রিক্স এর গুরুত্বপূর্ণ অংশ, অন্যদিকে মার্কিন বাণিজ্যেরও বড় বাজার।
