ওঙ্কার ডেস্ক: চলতি বছর ভারতে আয়োজিত কোয়াড সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অংশগ্রহণ নিয়ে জোর জল্পনা চললেও শেষ পর্যন্ত তাঁর সফর বাতিল হয়েছে বলে খবর। নিউ ইয়র্ক টাইমসের একটি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প আপাতত ভারতে আসার কোনও পরিকল্পনা রাখছেন না। এর ফলে ভারত, আমেরিকা, জাপান ও অস্ট্রেলিয়া চার দেশকে নিয়ে গঠিত আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক গোষ্ঠী কোয়াডের বার্ষিক বৈঠকে ট্রাম্পের অংশগ্রহণ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
গত জুনে নয়াদিল্লি জানিয়েছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছেন ট্রাম্প এবং যথাসময়ে তিনি ভারতে আসবেন। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের ঘনিষ্ঠ সূত্রে খবর, পরিস্থিতি এখন অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে।
প্রকাশিত রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৭ জুন মোদী ও ট্রাম্পের মধ্যে প্রায় ৩৫ মিনিটের একটি ফোনালাপ হয়। সেখান থেকেই নাকি সম্পর্কের অবনতির সূত্রপাত। ওই সময় কানাডায় জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিয়ে সরাসরি ওয়াশিংটনে ফিরে যেতে হয়েছিল ট্রাম্পকে। সেখান থেকেই তিনি মোদীকে অনুরোধ করেছিলেন, ফেরার পথে যেন একবার ওয়াশিংটনে যান। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী মোদী জানিয়ে দেন, তাঁর দেশে ফেরার পর একাধিক সরকারি দায়িত্ব আগে থেকেই নির্ধারিত, যা পরিবর্তন সম্ভব নয়। এই উত্তর ট্রাম্প ভালভাবে নেননি বলেই দাবি করা হয়েছে।
পহেলগাঁও হামলার পর ভারত-পাকিস্তান সংঘর্ষে মধ্যস্থতার দাবি বারবার করেছেন ট্রাম্প। ফোনালাপে সেই প্রসঙ্গও তোলেন তিনি। যুদ্ধ থামাতে পেরে গর্ব অনুভব করছেন বলে জানান ট্রাম্প।এমনকি, নোবেল শান্তি পুরস্কারের মনোনয়নের জন্য ভারত যেন তাঁর নাম প্রস্তাব করে, সেই অনুরোধও করেন তিনি। কিন্তু মোদীর তরফে কোনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটাই দুই রাষ্ট্রনেতার সম্পর্ক শীতল হওয়ার অন্যতম কারণ।
অন্য দিকে সম্প্রতি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের ওয়াশিংটন সফর নিয়েও নয়াদিল্লির অস্বস্তি বেড়েছে। হোয়াইট হাউসের একটি মধ্যাহ্নভোজে মুনিরের সঙ্গে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল মোদীকেও। ভারতীয় আধিকারিকেরা মনে করেছিলেন, সেখানে মুনিরের সঙ্গে হাত মেলাতে বাধ্য করা হতে পারে প্রধানমন্ত্রীকে। সেটিও সফর বাতিলের অন্যতম পরোক্ষ কারণ বলে অনুমান করা হচ্ছে।
কোয়াডের বার্ষিক বৈঠক এ বছর ভারতে হওয়ার কথা। প্রধানমন্ত্রী মোদী ইতিমধ্যেই অস্ট্রেলিয়া ও জাপানের প্রধানদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। কিন্তু আমেরিকার প্রেসিডেন্ট যদি অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে কোয়াডের কৌশলগত গুরুত্ব অনেকটাই খর্ব হবে বলে কূটনৈতিক মহলের অভিমত।
ওয়াশিংটন বা নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত ট্রাম্পের সফর বাতিলের বিষয়ে কোনও সরকারি মন্তব্য করা হয়নি। তবে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের রসায়ন যে নতুন করে তৈরি হয়েছে, তা স্পষ্ট।
