ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের একবার ভারতকে নিশানা করলেন রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্কের কারণে। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনায় ভারতের উপর একের পর এক শুল্ক চাপানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, রাশিয়ার থেকে ইউরেনিয়াম ও সার আমদানি করছে তো আমেরিকাই! সেই প্রশ্নের মুখে ট্রাম্প সাফ জানিয়ে দেন “এই বিষয়ে কিছু জানি না, খোঁজ নিতে হবে!”
সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে ট্রাম্পের সামনে রাশিয়া-আমেরিকা বাণিজ্য নিয়েই প্রশ্ন ওঠে। সাংবাদিকেরা জানিয়ে দেন, পারমাণবিক শিল্পের জন্য ইউরেনিয়াম হেক্সাফ্লোরাইড, প্যালাডিয়াম, বিভিন্ন রাসায়নিক এবং সার আমদানি করছে ওয়াশিংটন। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পরেও তা বন্ধ হয়নি। অথচ ভারতকে একই কারণে ‘শাস্তি’র হুঁশিয়ারি দেওয়া হচ্ছে! এই প্রশ্নের জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, “বিষয়টা জানা নেই। দেখতে হবে।”
এই অবস্থায় ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের পক্ষ থেকে স্পষ্ট বলা হয়েছে, আমেরিকা এবং ইউরোপ বারবার উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবে ভারতকে নিশানা করছে রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য। বিষয়টি শুধুই অনুচিত নয়, সম্পূর্ণরূপে অযৌক্তিক। ভারত মনে করিয়ে দিয়েছে, বিশ্বশান্তি ও কূটনৈতিক ভারসাম্য বজায় রাখতে প্রতিটি দেশেরই নিজের স্বার্থ দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার রয়েছে।
এই বিতর্কের মাঝেই ট্রাম্প আবার ঘোষণা করেছেন, ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। দাবি করেছেন, রাশিয়া থেকে তেল ও অস্ত্র কেনায় ভারতকে ‘জরিমানা’ দিতে হবে। যদিও জরিমানার অঙ্ক তিনি খোলসা করেননি। সোমবার ও মঙ্গলবার, দু’দিন ধরে একাধিক সাক্ষাৎকারে ভারতকে ভালো ব্যবসায়িক বন্ধু নয় বলেও আক্রমণ করেছেন ট্রাম্প। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় (ভারতীয় সময়) মার্কিন সংবাদমাধ্যম CNBC-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, “ভারত আমাদের সঙ্গে ব্যবসা করে। কিন্তু আমরা ওদের সঙ্গে করতে পারি না। এটা একতরফা বাণিজ্য। তাই আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আরও শুল্ক চাপানো হবে।”
এই অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে, ভারত-আমেরিকা ‘বন্ধুত্বপূর্ণসম্পর্ক আদৌ বজায় থাকবে তো? দীর্ঘদিন ধরেই একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তির কথা চললেও, এখনও পর্যন্ত কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছায়নি দু’দেশ। একতরফা শুল্ক আরোপ এবং ‘শাস্তিমূলক’ ভাষ্য নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক মহলে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বিশ্ব কূটনৈতিক মহলেও শুরু হয়েছে আলোচনার ঝড়। বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের এহেন অবস্থান আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে এক ‘দ্বিচারিতা’র দৃষ্টান্ত। রাশিয়ার সঙ্গে নিজের দেশের বাণিজ্য জারি রেখে, অন্য দেশের উপর চাপ তৈরি করা যুক্তিহীন এবং স্ববিরোধী। ভারত এখন কোন পথে এগোবে? এই মুহূর্তে নয়াদিল্লির সামনে কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করাই সবথেকে বড়ো চ্যালেঞ্জ। তবে, শুল্ক যুদ্ধের চাপের মধ্যেও যে ভারত মাথা নত করবে না, সেটাই স্পষ্ট করে দিচ্ছে সরকারের প্রতিক্রিয়া।
