ওঙ্কার ডেস্ক: আমেরিকার টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ডালাসে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন ভারতীয় বংশোদ্ভূত চন্দ্র নাগামাল্লইয়া। ৫১ বছরের ওই ভারতীয় প্রবাসী স্থানীয় একটি হোটেল চালাতেন। রবিবার সকালে স্ত্রী ও সন্তানের সামনেই তাঁকে খুন করা হয়। অভিযুক্ত হিসাবে গ্রেফতার হয়েছে হোটেলেরই কর্মী ইয়ারডানিস কোবোস-মার্টিনেজ। ঘটনার পর গোটা মার্কিন ভারতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এবার সেই প্রসঙ্গে মুখ খুললেন খোদ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। অবৈধ অভবাসীদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও বলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, রবিবার সকালে হোটেলের ভেতরে তীব্র তর্কাতর্কির পর ধারালো অস্ত্র দিয়ে চন্দ্রর গলায় আঘাত করে অভিযুক্ত। এরপর তাঁর মাথা বিচ্ছিন্ন করে ভয়াবহ কাণ্ড ঘটায় সে। চোখের সামনে স্বামীকে এভাবে খুন হতে দেখেন চন্দ্রর স্ত্রী। সন্তানের সামনেই ঘটে যায় এই বিভীষিকাময় হত্যাকাণ্ড। পরে রাস্তায় ছিন্নমুণ্ড হাতে নিয়ে হাঁটতে দেখা যায় অভিযুক্তকে। শুধু তাই নয়, ফুটেজে দেখা গিয়েছে তিনি মাথাটিকে লাথি মারছেন। সেই দৃশ্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়তেই তীব্র চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। জানা গিয়েছে, তার বিরুদ্ধে আগেও একাধিক অপরাধের অভিযোগ রয়েছে শিশু নির্যাতন থেকে শুরু করে গাড়ি চুরি পর্যন্ত। তদন্তকারীরা মনে করছেন, পূর্ববর্তী শত্রুতা বা ব্যক্তিগত বিবাদের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
এই ভয়াবহ ঘটনার পর ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ও রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, “অত্যন্ত ভয়ঙ্কর খবর। একজন সৎ ও পরিশ্রমী ভারতীয় প্রবাসীকে অবৈধ অভিবাসীর হাতে খুন হতে হল। আমেরিকার মাটিতে এ ধরনের অপরাধ কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।” ট্রাম্প অভিযোগ করেছেন, অভিযুক্ত কোবোস কিউবা থেকে অবৈধভাবে ঢুকেছিল আমেরিকায়। তাঁর মতে, প্রশাসন অভিবাসন নীতি নিয়ে ব্যর্থ হয়েছে বলেই এ ধরনের অপরাধ ঘটছে। তিনি আরও জানান, “যারা এভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটাচ্ছে, তাদের সবচেয়ে কঠোর শাস্তি দেওয়া উচিত।”
ঘটনায় ভারতীয় দূতাবাস নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। ডালাসের ভারতীয় সম্প্রদায় গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং দ্রুত বিচারের দাবি জানিয়েছে। ভয়ঙ্কর এই হত্যাকাণ্ড ঘিরে আমেরিকায় অভিবাসন নীতি নিয়ে ফের বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
