ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফের শুল্ক যুদ্ধের তাস খেলে রাজনৈতিক মহল ও বাণিজ্য জগতে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছেন। সোমবার রাতে (ভারতীয় সময় অনুযায়ী) একপ্রস্থ কড়া বার্তা দিয়ে ট্রাম্প জানিয়ে দিয়েছেন, দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়ার একাধিক দেশের উপর চাপানো হবে অতিরিক্ত আমদানি শুল্ক। তালিকায় রয়েছে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ-সহ মোট ১৪ টি দেশ। তবে এই কঠিন হুঁশিয়ারির মধ্যেই ভারতের জন্য মিলেছে স্বস্তির খবর। ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দিল্লির সঙ্গে বহু প্রতীক্ষিত বাণিজ্যচুক্তি প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। প্রেসিডেন্টের কথায়, “প্রায় হয়েই গিয়েছে। ব্রিটেন, চিনের সঙ্গে আমাদের কাজ শেষ। ভারতের সঙ্গেও প্রায় কাজ শেষের মুখে। তবে কিছু দেশ শুধু নিজেদের স্বার্থ দেখে, তাদের উপর শুল্ক চাপানো ছাড়া আর উপায় নেই।”
সোমবার ট্রাম্প তাঁর ঘোষণায় স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যারা ব্রিক্স জোটের ‘আমেরিকা-বিরোধী নীতি’ সমর্থন করবে, তাদের উপর ১০ শতাংশ হারে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হবে। আমেরিকার বানিজ্যবিদ হাওয়ার্ড লুটনিক জানিয়েছেন, “মার্কিন প্রেসিডেন্টের পারস্পরিক শুল্ক স্থগিত রাখার মেয়াদ বুধবার শেষ হলেও আপাতত নতুন নিয়ম কার্যকর হচ্ছে না। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্কের হার ও চুক্তির বিষয়বস্তু ব্যাপারে চরম সিধান্ত নেবেন”। এই নয়া শুল্কনীতিতে ব্রিক্সের সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে ভারতের জন্য কিছুটা ছাড় থাকলেও দক্ষিণ আফ্রিকার উপর পড়েছে কড়া শাস্তি। দক্ষিণ আফ্রিকার রাষ্ট্রপতি বরাবর চিঠি পাঠিয়ে ট্রাম্প জানিয়েছেন আগামী ১ অগস্ট থেকে আমেরিকার বাজারে দক্ষিণ আফ্রিকার পণ্যের উপর ৩০ শতাংশ শুল্ক কার্যকর হবে। উল্লেখ্য, গত এপ্রিলেও দক্ষিণ আফ্রিকার ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কথা বলেছিলেন ট্রাম্প, যা নতুন ঘোষণায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। শুধু দক্ষিণ আফ্রিকাই নয়, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়ার ক্ষেত্রেও শুল্কের হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার উপর ২৫ শতাংশ, থাইল্যান্ডের উপর ৩৬ শতাংশ এবং ইন্দোনেশিয়ার উপর ৩২ শতাংশ শুল্ক কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প।
বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে পাঠানো চিঠিতে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ১ অগস্ট থেকে যে কোনও বাংলাদেশি পণ্যের উপর ৩৫ শতাংশ শুল্ক বসবে। যদিও এপ্রিলে বাংলাদেশের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ছিল ৩৭ শতাংশ, অর্থাৎ নতুন ঘোষণায় দুই শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের এই নতুন ঘোষণায় কিছু দেশের উপর শুল্ক কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। কাজাখস্তানের উপর শুল্ক ২৭ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে। লাওসের ক্ষেত্রে ৪৮ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪০ শতাংশ করা হয়েছে। মায়ানমারের উপর শুল্ক ৪৪ শতাংশ থেকে নেমে দাঁড়িয়েছে ৪০ শতাংশে। তিউনিশিয়া, সার্বিয়া, কম্বোডিয়া এবং বসনিয়ার ক্ষেত্রেও শুল্ক হ্রাস করা হয়েছে। অন্যদিকে জাপান এবং মালয়েশিয়ার ক্ষেত্রেও শুল্কের হার বাড়িয়েছে আমেরিকা। আগে ২৪ শতাংশ শুল্ক ছিল এই দুই দেশের পণ্যের উপর, যা এক শতাংশ বৃদ্ধি করে ২৫ শতাংশ করা হয়েছে।
বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ আবারও স্পষ্ট করে দিচ্ছে যে তিনি শুল্ক যুদ্ধকে কৌশলগত অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চান। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব সরাসরি আমদানি-রপ্তানির ওপর পড়বে বলে আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা। তবে ভারতের জন্য এটি কিছুটা স্বস্তির খবর, কারণ ব্রিক্সের অংশ হয়েও বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছানো মানে শুল্কযুদ্ধে কিছুটা হলেও রেহাই মিলতে পারে। ফলে, ট্রাম্পের শুল্ক যুদ্ধের নতুন দফা বিশ্ববাজারের সামগ্রিক গতিপথকেই কতটা প্রভাবিত করবে, তা এখন সময়ই বলবে।
