ওঙ্কার ডেস্ক : রবিবারই ওঙ্কার বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, সাংহাই শীর্ষ সম্মেলনের মঞ্চ থেকে ভারত যে মিশাইল ছুঁড়ল, আসলে তা আপাত লক্ষ্য থেকে অনেক দূরে গিয়ে পড়ল। হলও তাই। মিশাইলটা যে তার কৌশলগত লক্ষ্যকেই ভেদ করেছে তা বোঝা গেল কিছুক্ষণ পরেই। দেখা গেল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোশ্যাল মিডিয়া ট্রুথ-এ জম্পেশ এক পোস্ট দিলেন। যার বাংলা অনুবাদ করলে দাঁড়ায়, “খুব কম লোকই বোঝে যে আমরা ভারতের সঙ্গে খুব কম ব্যবসা করি, কিন্তু তারা আমাদের সঙ্গে প্রচুর পরিমাণে ব্যবসা করে। অন্য কথায়, তারা আমাদের কাছে প্রচুর পরিমাণে পণ্য বিক্রি করে, তাদের সবচেয়ে বড় “ক্লায়েন্ট”, কিন্তু আমরা তাদের খুব কম বিক্রি করি – এখন পর্যন্ত সম্পূর্ণ একতরফা সম্পর্ক এবং এটি বহু দশক ধরে চলে আসছে। কারণ হল ভারত এখন পর্যন্ত আমাদের উপর এত বেশি শুল্ক আরোপ করেছে, যা অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সর্বোচ্চ, তাই আমাদের পণ্য ভারতে বিক্রি করতে অক্ষম। এটি সম্পূর্ণ একতরফা বিপর্যয় ! এছাড়াও, ভারত তার বেশিরভাগ তেল এবং সামরিক পণ্য রাশিয়া থেকে কেনে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে খুব কম। তারা এখন তাদের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু দেরি হয়ে গেছে। তাদের বহু বছর আগেই তা করা উচিত ছিল। মানুষের চিন্তা করার জন্য কিছু সহজ তথ্য !!!”
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্ক নিয়ে দুটি বার্তা এল ওয়াশিংটন থেকে। যা শুধু পরস্পরবিরোধী নয়, খানিক বেসামালও। এর আগে মার্কিন বিদেশ সচিব রুবিয়োর দাবি করেছিলেন, ভারত-আমেরিকার সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী। এই সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও উন্নত হবে। কিন্তু পরক্ষণেই ট্রাম্প চলতি শুল্কবিবাদের আবহে ভারতের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিযোগ করলেন, দশকের পর দশক ধরে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে একতরফা ফায়দা লুটেছে ভারত।
প্রসঙ্গত,এই বছর হোয়াইট হাউসে ফিরে আসার পর থেকে, ট্রাম্প শুল্ককে একটি বিস্তৃত নীতিগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করেছেন, যার ফলে শুল্ক আরোপ বিশ্ব বাণিজ্যকে উত্তপ্ত করে তুলেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার দাবি করেছেন যে ভারত মার্কিন পণ্যের উপর শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার প্রস্তাব দিয়েছে, এবং এও বলেছেন, নয়াদিল্লির বহু বছর আগেই এটা করা উচিত ছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন ভারতের উপর ২৫ শতাংশ পারস্পরিক শুল্ক আরোপ করেছে এবং দিল্লির রাশিয়ান তেল কেনার জন্য অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যার ফলে ভারতের উপর আরোপিত মোট শুল্ক ৫০ শতাংশে পৌঁছেছে, যা বিশ্বের সর্বোচ্চ।
ট্রাম্প রাশিয়ান তেল কিনে ইউক্রেনের উপর মস্কোর মারাত্মক আক্রমণে ভারতকে ইন্ধন দেওয়ার অভিযোগ করেছেন। তবে, তিনি রাশিয়ার উপর কঠোর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত রয়েছেন। ভারতের তেল ক্রয়ের পক্ষে যুক্তি দিয়ে, বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর যুক্তি দিয়েছেন যে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেল এবং রাশিয়ান এলএনজির বৃহত্তম আমদানিকারক যথাক্রমে চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ক্ষেত্রে একই মানদণ্ড প্রয়োগ করা হয়নি। ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যালে এও পোস্ট করেছেন যে “তারা এখন তাদের শুল্ক কমানোর প্রস্তাব দিয়েছে, কিন্তু দেরি হয়ে গেছে। তাদের বহু বছর আগেই তা করা উচিত ছিল।”। শুধু তাই নয়, তিনি একে বলেছেন, “দুই দেশের মধ্যে সম্পর্কের একতরফা বিপর্যয়”।
নয়াদিল্লি বলেছিল, যেকোনো প্রধান অর্থনীতির মতো, তারা তার জাতীয় স্বার্থ এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সকল ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তিয়ানজিনে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি ভ্লাদিমির পুতিন এবং চীনের রাষ্ট্রপতি শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনা করার সময় ট্রাম্পের এই মন্তব্য প্রকাশ্যে আসে।
প্রসঙ্গত, শুক্রবার মার্কিন ফেডারেল সার্কিটের আপিল আদালত রায় দিয়েছে যে ট্রাম্পের অনেক শুল্ক, যা বিশ্ব বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এবং তা অবৈধ কারণ তার কাছে সেগুলি আরোপের ক্ষমতা নেই। যদিও আদালত আপাতত শুল্ক বহাল রাখার অনুমতি দিয়েছে, যার ফলে ট্রাম্পকে রক্ষণশীল-সংখ্যাগরিষ্ঠ সুপ্রিম কোর্টে লড়াই করার জন্য সময় দেওয়া হয়েছে।
ওয়াশিংটন ভারতীয় পণ্যের উপর উচ্চ শুল্ক আরোপের পর বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল বলেছিলেন, ভারত “নতজানু” হবে না এবং পরিবর্তে নতুন বাজার দখলের দিকে মনোনিবেশ করবে।
