ওঙ্কার ডেস্ক : সাম্প্রতিক এক সমাবেশে অর্থনৈতিক বিষয় নিয়ে কথা বলছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সেসময় ২০২২ সালে তাঁর বাড়িতে এফবিআইয়ের তল্লাশির প্রসঙ্গ টেনে এনে জনসমক্ষে স্ত্রী মেলানিয়ার অন্তর্বাস সম্পর্কে বলতে শুরু করেন। এমন একটি বিষয় নিয়ে প্রেসিডেন্ট কথা বলতে পারেন সেই ধারণা ছিল না দর্শকদের। স্বাভাবিক ভাবেই সভাস্থলে উপস্থিত দর্শকরা সম্ভিত হয়ে যান। কিন্তু সেসব তোয়াক্কা না করে সেই তল্লাশির সময় তাঁর স্ত্রীর অন্তর্বাস নিয়ে কী হয়েছিল তা অবলীলায় বলতে থাকেন।
এমনিতেই ডোনাল্ড ট্রাম্পকে “মোস্ট আনপ্রেডিক্টেবল” বলে মনে করেন সবাই। কখন কী বলে বসেন, কখন কী করেন তার ঠিকঠিকানা প্রায়শই থাকে না। সম্প্রতি পণ্যশুল্ক নিয়ে মর্জিমাফিক সিদ্ধান্ত নেওয়ায় নিজের দলের মধ্যেও অনেকের বিরাগের পাত্র হয়েছেন। মাঝখানে নোবেল নিয়েও মেতেছিলেন। কিন্তু এক্কেবারে নিজের স্ত্রীর অন্তর্বাস নিয়ে জনসমক্ষে এমন মন্তব্য তিনি করতে পারেন এটা মোটেই প্রত্যাশিত ছিল না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট এফবিআইয়ের ওই তল্লাশির কথা তুলতে গিয়ে তাঁরা কী ভাবে তাঁর স্ত্রীর আলমারি তল্লাশি করেছিলেন, কী ভাবে মেলানিয়ার পোশাক তালগোল পাকিয়েছিল সেসব কথা বলতে থাকেন। ট্রাম্প এখানেই থেমে থাকেননি। বিস্তারিত ভাবে ওই তল্লাশির কথা জানাতে গিয়ে তিনি তাঁর স্ত্রীর অন্তর্বাসের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলতে থাকেন,ফার্স্ট লেডি কতটা সূক্ষ্ম, সংগঠিত এবং তার সঙ্গে “সবকিছু নিখুঁত”। এরপরই ট্রাম্প একটি অস্বাভাবিক মন্তব্য করেন যে, “সবকিছু নিখুঁত। তার অন্তর্বাস, যা কখনও কখনও প্যান্টি নামে পরিচিত, নিখুঁতভাবে ভাঁজ করা হয়, মোড়ানো হয়। এগুলি, যেন, এত নিখুঁত। আমার মনে হয় তিনি সেগুলি স্টিম করেন।” ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই অস্বাভাবিক মন্তব্যের একটি ক্লিপও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

যত দিন যাচ্ছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ততই স্পষ্টবাগীশ হয়ে উঠছেন, নাকি তাঁর কথাবার্থায় অসংলগ্নতা দেখা দিচ্ছে তা নিয়ে মাঝেমধ্যে ধন্ধে পড়ছেন সে দেশের নাগরিকরা। এবার যেন তা চরম আকার নিল। ফার্স্ট লেডি কীভাবে তাঁর পোশাক সাজিয়ে রাখেন সে সম্পর্কে অস্বাভাবিক ভাবে বিস্তারিত মন্তব্য করে বসলেন। বললেন, তিনি(স্ত্রী) “খুবই যত্নশীল ব্যক্তি” এবং “সবকিছু নিখুঁত”। তার অন্তর্বাস, যাকে কখনও কখনও প্যান্টি বলা হয়, নিখুঁতভাবে ভাঁজ করা, মোড়ানো। এগুলো, যেন, এত নিখুঁত। আমার মনে হয় সে এগুলো স্টিম করে।”
২০২২ সালের আগস্টে ট্রাম্পের হোয়াইট হাউস থেকে উঠে যাওয়ার পর মার-এ-লাগোতে এফবিআইয়ের তল্লাশি অভিযানের কথা ট্রাম্প যে এখনও ভুলতে পারেননি এদিন তাঁর বক্তব্যে তা উঠে আসে। প্রথম দফার শাসনকালের পর গোপন নথিপত্র মামলায় ওয়াশিংটন তদন্ত শুরু করে। কারণ, জাতীয় আর্কাইভস এবং রেকর্ডস প্রশাসন (এনএআরএ) বলেছিল যে তারা জানতে পেরেছে যে মার-এ-লাগো থেকে ১৫ টি বাক্সে সরকারি নথিপত্র নিয়ে গিয়েছেন ট্রাম্প। এনএআরএ অনুসারে, ট্রাম্প যখন তার মেয়াদ শেষে হোয়াইট হাউস ছাড়েন তখন এই রেকর্ডগুলি সরকারকে ফেরত দেওয়া উচিত ছিল। সেই ফেডারেল তদন্তের অংশ হিসেবে এফবিআই কর্মকর্তারা গিয়েছিলেন তাঁর বাসভবনে। যাকে ট্রাম্প রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে বারবার অভিহিত করেছেন।
