ওঙ্কার ডেস্ক: মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড নাকি সেপ্টেম্বরেই পাকিস্তান যাচ্ছেন। এমনই খবরে গত কয়েকদিন পাক মিডিয়া আর প্রশাসন প্রায় উৎসব করে ফেলেছিল। ব্যানার, হেডলাইন, প্যানেল আলোচনায় গলা ফাটিয়ে প্রমাণ করার প্রাণান্ত চেষ্টা, আমেরিকা তাদের কতটা ‘ঘনিষ্ঠ বন্ধু’। তবে সাম্প্রতিক পহেলগাম হত্যাকাণ্ড এর পর এই দাবি নতুন মাত্রা পেয়েছে বিশেষ করে যখন পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক চাপ এবং আন্তর্জাতিক মহলে ক্রমবর্ধমান প্রশ্নবাণের মুখে শাহবাজ শরিফ সরকার।
এই প্রেক্ষাপটে হঠাৎই পাক মিডিয়া থেকে প্রচার শুরু হয় সেপ্টেম্বরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসলামাবাদ সফরে আসছেন! নির্দিষ্ট সফরসূচিও ছাপা হয় কিছু সংবাদপত্রে। উদ্দেশ্য খুব স্পষ্ট পহেলগামের ঘটনায় কোণঠাসা সরকার দেশে-বিদেশে একটা বার্তা দিতে চাইছে, আমেরিকা এখনও পাশে রয়েছে। কিন্তু এই ‘প্রচারণা’ ভেঙে দেয় হোয়াইট হাউস নিজেই। প্রেস সেক্রেটারি স্পষ্ট জানিয়ে দেন ট্রাম্পের পাকিস্তান সফরের খবর সম্পূর্ণ মিথ্যা, সেপ্টেম্বরে তিনি যুক্তরাজ্যে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় ব্যস্ত থাকবেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান অগ্রাধিকারের তালিকায় পাকিস্তান নেই এই বার্তাই কার্যত উঠে আসে হোয়াইট হাউসের মন্তব্যে।
এই খবর ছড়ানোর পেছনে আরও একটি স্পর্শকাতর সমীকরণ কাজ করছে। সেনা প্রধান আসিম মুনিরের হোয়াইট হাউস সফর এবং ট্রাম্পের সঙ্গে একান্ত আলোচনার খবর পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক কাঠামোতে বড় প্রশ্ন তুলে দিচ্ছে। শাহবাজ শরিফ সরকার রয়েছে ঠিকই, তবে বিদেশ নীতি ও নিরাপত্তা ইস্যুতে এখনও সেনাবাহিনীর প্রভাব কতটা ব্যাপক, এই ভুয়ো সফর বিতর্কে সেটাই ফের স্পষ্ট। বলা হচ্ছে, মুনিরকে ঘিরে যে জল্পনা চলছে। অবসরের পর রাষ্ট্রপতি পদে যাওয়ার তা সত্যি হলে পাকিস্তানের ‘গণতন্ত্র বনাম সেনা-ছায়া’ তর্ক আরও তীব্র হবে।
আরেকটি বড় বার্তা এমন এক সময়ে যখন ইরান-ইজরায়েল সংঘাত, আফগানিস্তান পুনর্গঠন, ভারত-আমেরিকা সম্পর্ক, দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক অক্ষ সব কিছুতে ওয়াশিংটনের মনোযোগ অন্যখানে, তখন ইসলামাবাদ যে এখনও মার্কিন ছত্রছায়ায় পুরনো বন্ধুত্বের গল্প শোনাচ্ছে, তা আঞ্চলিক রাজনীতিতে তাদের একরকম ‘কূটনৈতিক দুর্বলতা’-ই প্রমাণ করছে।
