সুমিত কার্যী, আলিপুরদুয়ার : হাতে আর মাত্র কয়েকদিন। ১৬ সেপ্টেম্বর রাজ্যের অন্যান্য বনাঞ্চলের সঙ্গে খুলে যাচ্ছে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানও। সামনেই পুজো।কিন্তু এবার পুজোর বুকিং প্রায় নেই বললেই চলে। এমনটাই জানাচ্ছেন এখনাকারে পর্যটন ব্যবসায়ীরা। পুজোর বুকিং কম হওয়ায় জঙ্গলে ঢোকার কার ও হাতি সাফারির টিকিটের অনলাইন বুকিং না থাকাকেই দায়ি করেছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। দ্রুত কার সাফারি ও হাতি সাফারির অনলাইন বুকিং চালুর দাবি জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা।

জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানে একমাত্র কার সাফারি ও হাতি সাফারির মাধ্যকমেই জঙ্গলে ঢোকা যায়। অন্য কোন উপায়ে এই বনাঞ্চলে ঢোকার ব্যবস্থা নেই। পর্যটকরা ডুয়ার্সে ঘোরার জন্য এসবের অনলাইন বুকিং করে থাকেন। জানা গিয়েছে ২১ জানুয়ারি আলিপুরদুয়ারে এসে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পর্যটকদের কাছ থেকে প্রবেশ মুল্য তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেন। আর প্রবেশ মুল্য তুলে দেওয়ার পরেই অনলাইন সাফারি বুকিং ব্যবস্থাও বন্ধ করে দেয় বন দপ্তর।

ফলে এখন পর্যটকদের জলদাপাড়ায় এসে লাইনে দাঁড়িয়ে সাফারির টিকিট কাটতে হয়। এটা পর্যটকদের কাছে খুবই অনিশ্চিত। কারণ, কার ভাগ্যে এই টিকিট মেলে তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। যাঁরা টিকিট পান না তাঁরা জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ভেতরে ঢুকতেও পারেন না। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের অপরূপ সৌন্দর্য, এক শৃঙ্গ গন্ডার, হাতি, বাইসন, ময়ুর কিছুই দেখতে পান না।নিরাশ হয়ে তাদের জলদাপাড়া এলাকা থেকে চলে যেতে হয়। আবার অনেককে সাফারির টিকিট পেতে মাঝ রাত থেকে লাইনে দাড়াতে হয়। অনেকে আবার একদিন টিকিট না পেলে পরের দিন থেকে যান।

এই সব নানা ঝক্কি ঝামেলার জন্য জলদাপাড়া থেকে মুখ ফেরাচ্ছেন পর্যটকরা। ফলে আগের মতো হাতি ও কার সাফারিতে অনলাইন বুকিং চালু করার দাবি জানিয়েছেন পর্যটন ব্যবসায়ীরা। অনলাইন বুকিং চালু হয়ে গেলে পর্যটকরা জঙ্গলে প্রবেশের নিশ্চয়তা পেয়ে পরে এই অঞ্চলের হোটেল রিসোর্ট বুক করে ট্রেনের টিকিট কাটতে পারেন বলে জানিয়েছেন পর্যটকরা। যদিও এই বিষয়ে চিন্তাভাবনা চলছে বলে জানিয়েছে বন দপ্তর।
