মাঝ আকাশে পাইলটদের হাতাহাতি, তাও আবার ছুরি নিয়ে! দুবাই থেকে তেল আভিভগামী বিমানে ঘটল এমনই ভয়ঙ্কর কাণ্ড। ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ককপিটের ভিতরেই দুই পাইলট জড়িয়ে পড়লেন মারামারিতে। একজনের ছুরির আঘাতে রক্তাক্ত হলেন অন্যজন। আর তার জেরেই ছড়াল বিমান অপহরণের আতঙ্ক।
এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী, দুবাই থেকে উড়ানের কিছু পরেই এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোলের কাছে আপৎকালীন বার্তা পৌঁছয়। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ডেটা বলছে, তখন বিমানটি ৩৪ হাজার ফুট উচ্চতায় ছিল। মাত্র ২ মিনিটের মধ্যে সেটি ১৭ হাজার ফুটে নেমে আসে। বিমানে ছিলেন ১৮০ জন যাত্রী।
আপৎকালীন বার্তা থেকেই বিভ্রান্তি তৈরি হয়। প্রথমে পাইলট পাঠান স্কোয়াক কোড ৭৭০০, যার অর্থ জরুরি অবতরণের অনুমতি চাওয়া হচ্ছে। তার পরপরই পাঠানো হয় ৭৫০০ কোড, যার অর্থ বিমান হাইজ্যাক হয়েছে বা বেআইনিভাবে দখল করা হয়েছে। এই কোড পেতেই হুলস্থুল পড়ে যায়।
‘টাইমস অফ ইজরায়েলে’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাইজ্যাকের খবর রটতেই ইজরায়েলি বায়ুসেনার একাধিক যুদ্ধবিমান নিরাপত্তার জন্য ওই বিমানের দিকে রওনা দেয়। জরুরি বৈঠক ডাকেন প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইজরায়েলের আকাশসীমাও সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ইতিমধ্যে জর্ডনের আকাশে থাকা ফ্লাই দুবাইয়ের FZ1073 বিমানটি আচমকা পথ বদলে ফেলে। তেল আভিভে সকাল সাড়ে ৯টায় নামার কথা থাকলেও, সৌদি আরবের দিকে ঘুরে যায়। স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে সৌদির তাবুক আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি।
পরে ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে জানানো হয়, এটি কোনও হাইজ্যাকের ঘটনা নয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, ককপিটে দুই পাইলটের মধ্যে তর্কাতর্কি চরমে ওঠে এবং তা হাতাহাতিতে গড়ায়। সেই সময়ই ভুলবশত বা ইচ্ছাকৃতভাবে জরুরি সংকেত পাঠানো হয় কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বিমান সংস্থা এবং নিরাপত্তা সংস্থাগুলি।