স্পোর্টস রিপোর্টার : ইস্টবেঙ্গল ৪, মোহনবাগান ১। জ্বলল মশাল। ডুরান্ড কাপ ইস্টবেঙ্গলে। ফাইনালে মোহনবাগানকে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল। যেন ১৯৯৭ সালের ডায়মন্ড মডেলের পুনরাবৃত্তি ৪-১ গোলের ব্যবধানে। সেদিন ফেডারেশন কাপের সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক করেছিলেন বাইচুঙ আর এদিন ডুরান্ড কাপের ফাইনালে হ্যাটট্রিক করলেন এডমুন্ড লালরিনডিকা। ১৭ বার ডুরান্ড কাপ ট্রফি পেয়ে মোহনবাগানের সঙ্গে ট্রফি জয়ে এক সারিতে চলে এল।শুরু থেকেই ইস্টবেঙ্গলের খেলায় আগুনের তেজ দেখা যায়। ১০ মিনিটে ইস্টবেঙ্গল ডি বক্সের বাইরে থেকে বল ধরেন রশিদ। তিনি কাট করে দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বলটা দেন বিপিন সিংকে। তিনি সেকেন্ড পোস্টে বল রেখে দারুণ গোল করেন। ২ মিনিট পরে দ্বিতীয় গোল ইস্টবেঙ্গলের জেসিন টিকের জায়গায় এডমুন্ডকে এই ম্যাচে খেলান হাবাস। বক্সের বাইরে এডমুন্ড বল পান। তাঁকে বল বাড়ান জিকশন সিং। এডমুন্ড লো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন। এরপর গোল হজম করতে পারতো ইস্টবেঙ্গল। ২০ মিনিটে ফ্রি কিক বাঁচালেন গিল বক্সের বাইরে ফ্রি কিক পায় মোহনবাগান। শট নেন লিস্টন কোলাসো। তিনি সরাসরি গোল লক্ষ্য করে শট নেন, কিন্তু ইস্টবেঙ্গল গোলকিপার অনবদ্য দক্ষতায় বল ক্লিয়ার করেন। ২ মিনিট পরে আবার গোল লাল হলুদের।
২২ মিনিটে তৃতীয় গোল ইস্টবেঙ্গলেরবক্সের মাঝখানে দানি রামিরেজ় দুই ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বল বাড়ান এডমুন্ড লালরিন্ডিকাকে। তিনি মোহনবাগান ডিফেন্ডার রাহুল ভেকেকে কাটিয়ে দেন। সামনে বিশাল কাইথ, তিনি শুয়ে বল বাঁচাতে যান, এডমুন্ড কাইথকে কাটিয়ে ফাঁকা পোস্টে গোল করেন। ৩২ মিনিটে গোল শোধ করে মোহনবাগান। মনবীর সিংয়ের গোল বক্সের ডান দিক থেকে মনবীর সিং বল নিয়ে ওঠেন আর তিনি জয় গুপ্তাকে কাট করেন। এর ফলে বক্সের মাঝখানটা তাঁর কাছে ওপেন হয়ে যায়। তিনি সহজেই বাঁ পায়ে শট নেন। বলটা আনোয়ারের পায়ের নিচ দিয়ে যায় এবং প্রভসুখন সিংয়ের হাতে কিছুটা লাগলেও গোলে যাওয়া থেকে আটকাতে পারেনি। ৪০ মিনিটে ফের গোল হজম করতে পারতো ইস্টবেঙ্গল। তবে এগিয়ে এসে বাঁচালেন গিল মাঝমাঠ থেকে ফরওয়ার্ড পাস দেওয়া হয় ম্যাকলারেনকে লক্ষ্য করে। তিনি সামনের দিকে দৌড়ে যান বলের দখল নিতে। অন্যদিকে গিল এগিয়ে আসেন বল ক্লিয়ার করতে। ম্যাকলারেন বলের দখল নেওয়ার আগে গিল তা ক্লিয়ার করেন দেন।৪৪ মিনিটে ফের গোল করে হ্যাটট্রিক করেন এডমুন্ড।
মহম্মদ রশিদ ফ্রি কিক দেন বক্সের বাঁদিকে থাকা জয় গুপ্তাকে। তিনি বলটা মাইনাস করেন। সেই সময় মোহনবাগান ডিফেন্ডাররা এক লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন, এডমুন্ড লালরিন্ডিকা সঠিক জায়গায় বলটা পান এবং পা ছুঁইয়ে গোল করেন। প্রথমার্ধে ৪-১ গোলে পিছিয়ে থাকার পরে সেকেন্ড হাফে মিগুয়েলকে প্রথম থেকেই নামায় মোহনবাগান।একের পর এক বদল করেও মোহনবাগানের রক্ষা হয়নি। ৬৫ মিনিটে সহজ সুযোগ মিস করলেন সাহাল। বক্সের বাঁদিক থেকে কিয়ান নাসিরি ক্রস বাড়ান মিগুয়েলকে। তিনি বলটা রিসিভ না করে তা যেতে দেন সাহাল আব্দুল সামাদের কাছে। তাঁকে শুধু শট নিতে হতো, তিনি সেটা করতে পারেননি। কানেক্ট করতে পারেননি ঠিক করে। ৭২ মিনিটে ৫ গোলের সুযোগ হাতছাড়া হয় ইস্টবেঙ্গলের।
মাঝমাঠ থেকে বল পেয়ে সরাসরি বক্সের বাঁদিক থেকে শুরু করেন জেসিন টিকে। কিন্তু তিনি শট না নিয়ে বক্সের মাঝে অনেকগুলো টাচ দেন এবং সেই সময়ে বিশাল কাইথ এগিয়ে গিয়ে জেসিন টিকের শট প্রতিহত হয়।তবে এদিন জিততে কোন অসুবিধা হয়নি ৫ গোলের স্মৃতিও ফিরে আসতে পারতো। সোমবার ক্লাবে আসবে ট্রফি হবে সেলিব্রেশন।