নিজস্ব প্রতিনিধি : দক্ষিণ ২৪ পরগনার জামালপুরের স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বেহাল দশা নিয়ে ফের ক্ষোভে ফুঁসছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘদিন ধরে পরিকাঠামোর অভাবে ধুঁকছে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজ্যে সরকার বদল হলেও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের পরিস্থিতির তেমন কোনও পরিবর্তন হয়নি। রাত নামলেই স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে বসছে অসাধু ব্যক্তিদের মদের আসর। ফলে নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
প্রায় আটটি পঞ্চায়েত এলাকার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা এই স্বাস্থ্যকেন্দ্র। প্রায় তিন থেকে চার হাজার মানুষ এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের উপর নির্ভরশীল। কিন্তু অভিযোগ, সপ্তাহে মাত্র তিন দিন চিকিৎসক বসেন। পর্যাপ্ত ওষুধের ব্যবস্থাও নেই। অনেক সময় ডি-গ্রুপের কর্মীদের দিয়ে রোগীদের ওষুধ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
স্থানীয় বাসিন্দাদের আরও অভিযোগ, স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে যে ওষুধ দেওয়া হয়, তার মান নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। ফলে চিকিৎসা পরিষেবা নিতে এসে সমস্যায় পড়তে হয় সাধারণ মানুষকে। অন্তঃসত্ত্বা মহিলাদের জন্যও নেই পর্যাপ্ত ব্যবস্থা। এমনকি জরুরি পরিস্থিতিতে অক্সিজেন দেওয়ার পরিকাঠামোও নেই বলে অভিযোগ। স্থানীয়দের দাবি, সম্প্রতি অক্সিজেনের অভাবে দুই যুবকের মৃত্যুও হয়েছে।
স্বাস্থ্যকেন্দ্রের কর্মীদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ধরেই পর্যাপ্ত চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব রয়েছে। পর্যাপ্ত ওষুধও মজুত থাকে না। পার্শ্ববর্তী স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে ওষুধ এনে কোনওরকমে সাধারণ মানুষকে পরিষেবা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। তাঁদের দাবি, প্রায় ১৫ বছর ধরে এখানে অক্সিজেনের কোনও ব্যবস্থা নেই।
এদিকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রে পর্যাপ্ত পরিকাঠামো থাকা সত্ত্বেও ওষুধ সংরক্ষণের জন্য ফ্রিজ ব্যবহার করা হচ্ছে না কেন, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। এই অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সামনে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। স্থানীয়দের আরও দাবি, আগের সরকারের আমলে এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রের জন্য ৮০টি বেড দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমানে সেই বেডগুলির কোনও হদিশ নেই। তাঁদের প্রশ্ন, বেডগুলি গেল কোথায় ?
রাজ্যে পালাবদলের পর এবার নতুন সরকারের কাছে দ্রুত স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির পরিকাঠামো উন্নয়ন এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, ওষুধ ও জরুরি পরিষেবার ব্যবস্থা করার আবেদন জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।
এর পাশাপাশি রাতের অন্ধকারে স্বাস্থ্যকেন্দ্র চত্বরে মদের আসর বসার অভিযোগে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন তাঁরা। বিশেষ করে বিলাপুর হাড়ির কাছে স্থানীয়দের আবেদন, বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
তবে স্বাস্থ্যকেন্দ্রটির সার্বিক পরিকাঠামোর উন্নয়নের জন্য সরকারি প্রকল্প থেকে প্রায় এক কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এখন সেই অর্থে দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ ও চিকিৎসা পরিষেবার উন্নয়ন হয় কি না, সেদিকেই তাকিয়ে এলাকাবাসী।