ওঙ্কার ডেস্ক : তুরস্ক ও কাতারের শান্তি প্রচেষ্টা ভেসে যেতেই পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে বিতর্কিত সীমান্ত ডুরান্ড লাইন ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। সীমান্ত এলাকায় কার্যত যুদ্ধ পরিস্থিতি দেখা দিচ্ছে। শান্তি প্রক্রিয়ায় কোনো সমাধান সূত্র বেরিয়ে না আসায় পাকিস্থান ও আফগানিস্তান তাদের অনড় মনোভাব জাহির করতে শুরু করেছে। উভয় দেশই তাদের ফ্রন্টলাইন চেকপোস্টে ভারী কামান মোতায়েন করেছে। সংবাদ সংস্থা সিএনএন জানিয়েছে, উভয় পক্ষের সামরিক বাহিনী এবং সরঞ্জামের তীব্র চলাচলের খবর পাওয়া যাচ্ছে, যার ফলে পাক আফগান সীমান্তে উত্তেজনার উত্তরোত্তর বেড়ে চলেছে।
চামান-স্পিন বোল্ডিক, আঙ্গুর আড্ডা, কুর্রাম-নাঙ্গাহার এবং তোরখাম সহ একাধিক সেক্টরে আকাশপথে নজরদারি চালাতে পাকিস্তানি ড্রোনগুলিকে দেখা যাচ্ছে। যা পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি করেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উভয় দেশ সম্ভাব্য সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে, পরিস্থিতি অস্থির এবং অপ্রত্যাশিত। গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত চৌকিতে ভারী কামান মোতায়েন সম্ভাব্য সঙ্ঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এমনিতেই আলোচনা চলাকালীন ডুরান্ড লাইন বরাবর চোরাগোপ্তা সংঘর্ষ অব্যাহত ছিল। বিশেষ করে কুর্রাম এবং নাঙ্গাহারের মতো এলাকায়, যেখানে সীমান্তবর্তী অঞ্চলে আক্রমণ এবং বিদ্রোহী কার্যকলাপ দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে, সাম্প্রতিক ঘটনাবলী, যেমন বৃহৎ পরিসরে সৈন্য মোতায়েন এবং নজরদারি অভিযান, ইঙ্গিত দেয় যে পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান উভয়ই বৃহত্তর এবং সার্বিক সামরিক সংঘর্ষের জন্য প্রস্তুত হতে পারে।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চমন-স্পিন বোল্ডিক এবং তোরখাম পয়েন্ট সহ একাধিক সেক্টরে চরম হাই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। পাকিস্তান এবং আফগান উভয় কর্তৃপক্ষ জরুরি প্রোটোকল সক্রিয় করেছে বলে জানা গেছে। উত্তেজনা রোধে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। ইসলামাবাদ এবং কাবুলের মধ্যে কূটনৈতিক চ্যানেলগুলি যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যদিও পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে না। উভয় দেশই ডুরান্ড লাইন বরাবর ভারী অস্ত্রশস্ত্র মোতাহেন করছে। তৎপরতা এমন জায়গায় পৌঁচেছে যে যে কোনো মুহূর্তে পূর্ণ সংঘাত অসম্ভব নয়।

একেই পাক আফগান সীমান্তবর্তী এলাকায় বিদ্রোহী কার্যকলাপ দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল, বর্তমান পরিস্থিতিতে তা যেন আগ্নেয়গিরির আকার নিতে চলেছে। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ চমন-স্পিন বোল্ডিক এবং তোরখাম পয়েন্ট সহ একাধিক সেক্টরে চরম উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এই অবস্থায় আন্তর্জাতিক মহল এই পরিস্থিতি গভীর ভাবে পর্যবেক্ষণ করা শুরু করেছে। কারণ পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে যে কোনও বৃহৎ আকারের সংঘাতের ফলে আঞ্চলিক প্রভাব পড়তে পারে। কূটনীতি কী সফল হবে, নাকি পরিস্থিতি বিপজ্জনক সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নেবে তা নির্ধারণের জন্য আগামী দিনগুলি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
