ওঙ্কার ডেস্ক : ইউনূস আমলে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর লাগাতার নিপীড়নের ঘটনায় উদ্বিগ্ন ভারত। সম্প্রতি ঢাকায় একটি দুর্গা মন্দির ভেঙে ফেলার পর সে দেশে সংখ্যালঘুদের উপর যেভাবে আক্রোশ নেমে এসেছে তাতে ভারতের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এই পদক্ষেপকে ন্যায্য বলে অভিহিত করা হয়েছে। বলা হয়েছে, এটি একটি অবৈধ নির্মাণ।
বিদেশ মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেছেন, “আমরা বুঝতে পারছি যে চরমপন্থীরা ঢাকার খিলক্ষেতে দুর্গা মন্দির ভেঙে ফেলার জন্য উল্লসিত ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার মন্দিরের নিরাপত্তা প্রদানের পরিবর্তে ঘটনাটিকে অবৈধ ভূমি ব্যবহারের ঘটনা হিসেবে তুলে ধরে মন্দির ধ্বংসের অনুমতি দিয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “এর ফলে দেবতাটিকে স্থানান্তরিত করার আগেই ক্ষতিগ্রস্থ করা হয়েছে। আমরা হতাশ যে বাংলাদেশে এই ধরণের ঘটনা বারবার ঘটছে। আমি জোর দিয়ে বলতে চাই যে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব হিন্দু, তাঁদের সম্পত্তি এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলিকে রক্ষা করা”।
মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের উপর বারবার হামলারর বিষয়ে ভারত উদ্বেগ প্রকাশ করে চলেছে। ব্যাংককে বিমসটেক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার মধ্যে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিষয়ে ইউনূসের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। বাংলাদেশে হিন্দু সহ সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা এবং সুরক্ষা সম্পর্কিত ভারতের উদ্বেগের কথাও তুলে ধরেছিলেন। ইউনূসও এই বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্তু তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি বদলায়নি।
এবারও ঘটনা প্রবাহের পুনরাবৃত্তি ঘটল। বে-আইনি দখলদারীর ধুয়ো তুলে কট্টরপন্থীরা গুঁড়িয়ে দিল দুর্গার মন্দির। যদিও মন্দিরটি সরিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল সংখ্যালঘু হিন্দুরা। ভক্তদের আবেদন উপেক্ষা করে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সাহায্যে বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্তৃপক্ষ এই ভাঙন চালিয়েছে। ধ্বংসস্তূপ দেখে বোঝা যাচ্ছে, বুলডোজার দিয়ে মন্দিরটি ভাঙা হয়েছে। ধ্বংসস্তুপের মধ্যে পড়ে আছে দুর্গা প্রতিমাও।
