বিপ্লব দাশ : মেঘের ভ্রূকুটিকে উপেক্ষা করে মণ্ডপে মণ্ডপে এখন ঢাকের দাপট। মাইকে মাইকে পুজোর গান। পুরোনো হলেও তা নতুন ছন্দে, আনন্দের সুরে বাজছে পাড়ায় পাড়ায়, বারোয়ারি মণ্ডপে। সবেই দাপিয়ে গেছে বর্ষা-অসুর। তার জলমগ্নতা থেকে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে কলকাতা, রোদের উঁকিঝুঁকিতে হাসি মিশেছে গ্রামবাংলার শরতের ছবি। যদিও তা হুমকির মুখে, যখন তখন ধেয়ে আসতে পারে জলভরা মেঘে। তবু যেন থেমে নেই শারদীয়ার আনন্দ। মণ্ডপে মণ্ডপে বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভীড়। পাটভাঙা নতুন শাড়ি, নতুন জামা, রঙ রাঙিনীর এই খেলায় প্রকৃতির মুখভার চোখে পড়ে না। এই আনন্দের শরিক ওঙ্কার বাংলাও। চলছে পুজো পরিক্রমা, পুজোর আড্ডায় মেতে উঠেছে ওঙ্কার টিভির স্ক্রিন। দুর্গতিনাশিনী আছেন। এ দুর্যোগকে ভয় কী তবে !
রূপং দেহি, জয়ং দেহি, যশো দেহি, দিষোজহি। তিনি আমাদের অরূপ পরমাত্মার স্বরূপ উপলব্ধি করার সামর্থ্য দেন। চিত্তবৃত্তি ও ইন্দ্রিয় জয় করার শক্তি দেন। যশ দেন। বিঘ্নসৃষ্টিকারী শত্রুদের বিনাশ করেন। এই বিশ্বাস বুকে বেঁধে আবহামানকাল ধরে যেভাবে বাঙালি প্রতিটি শারদীয়া উৎসবে মেতেছে, এবারও নিশ্চয়ই তার অন্যথা হবে না। তবু বলতেই হয়, পুজোর মুখে প্রকৃতি যে শিক্ষা দিয়ে গেল, তা যেন সবাইকে শিক্ষিত করে। সকলের কাছে আমাদের একটাই আবেদন অয়ানন্দের সঙ্গে সাবধানতা যেন থাকে। কারণ, মেঘের ভ্রূকুটি এখনও রয়েছে। পুজোর কটা দিন হয়তো তার থেকে রেহাই নেই। তবু মা-কে বাদ দিয়ে বাঙালির শরৎকাল হয় না। মাঠ সাদা হয়েছে কাশফুলে, শিউলির ডাল ভরেছে শিশির-শুভ্র-পাপড়িতে, ডোবায় ডোবায় মাথা উঁচু করেছে পদ্ম, শালুক। আমাদের আনন্দও পুরোভাগে অংশ হোক এই প্রকৃতির।
