নিজস্ব প্রতিনিধি : হাতে আর মাত্র কয়েকদিন। তারপরেই দেবী দুর্গাকে বরণ করে নেবে আপামর বাঙালি। সেই লক্ষ্যে প্রস্তুতিও তুঙ্গে। জেলার বারোয়ারী ক্লাব গুলো সেজে উঠছে ভিন্ন ঘরানায়। কিন্তু ইতিহাসের পাতায় নজর রাখলে জানা যাবে অন্য কাহিনী। জানা যায়, বাংলায় প্রথম দুর্গাপুজো শুরু হয়েছিল পারিবারিকভাবে। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, সাবর্ণ রায়চৌধুরীর হাত ধরেই বাংলায় প্রথম পারিবারিক দূর্গা পুজোর চল শুরু হয়েছিল।
তারপর গঙ্গা দিয়ে অনেক জল বয়ে গেছে। ঘরের দূর্গা পুজো ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছে বারোয়ারি। এর মধ্যেই আবার বিগত কয়েক বছরে নতুন করে থিম পুজোর সংযোজন ঘটেছে। কিন্তু একসময় যে একান্নবর্তী বাড়ির পুজো দেখার জন্য লোকে ভিড় জমাত, কালের নিয়মে সেই ছবি আজ প্রায় দেখা যায় না বললেই চলে। যার নেপথ্যে অনেক কারণ থাকলেও অর্থনৈতিক সংকট একটা বড় বাধা।
বিগত কয়েক বছর রাজ্য সরকারের তরফে বারোয়ারি পুজো ক্লাব গুলোকে আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়। এই বছরও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী ১ লক্ষ টাকা সরকারি অনুদান দেবেন কম বাজেটের পুজো গুলোয়। কিন্তু এই তালিকায় পারিবারিক পুজো গুলো থাকে না। ফলে সাধ থাকলেও সাধ্যে কুলিয়ে উঠতে পারে না বহু পরিবার। তাই দিন শেষে দেবী বরণ হয় কোনরকমে, কম আলোয়। কম আয়োজনে। এই অবস্থায় পাড়ায় কান পাতলে শোনা যাচ্ছে অন্য কথা।
হাওড়ার বেশ কয়েকটি পরিবারের আক্ষেপ, মুখ্যমন্ত্রীর অর্থ সাহায্য পেলে তাঁরাও, পুজোটা আড়ম্বর করে করতে পারত। সেই পরিবারের মধ্যে একটি হল হাওড়া জয়পুর থানার অমরাগরি রায় পরিবার। ৩০৭ বছর ধরে দেবী দুর্গার আরাধনা করে আসছেন তাঁরা। যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে ইতিহাসের বহু স্মৃতি। এমনকি শোনা যায়, বহু বছর আগে তাঁদের বাড়ির পুজোয় বাঘ বলিও হত। যদিও তার সত্যতা জানা নেই।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অতীতে এই এলাকার পাশ দিয়ে বয়ে গিয়েছিল দামোদর নদ। বর্ধমানের সম্পন্ন ব্যবসায়ী শান্তি রায় ব্যবসার সূত্রে এই নদী পার করার সময় সেখানে নৌকা নোঙর করেছিলেন। রাত হয়ে যাওয়ায় সেখানে রাত্রিবাস করেছিলেন। শোনা যায়, ওই রাতেই গজলক্ষী দেবী তাঁকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে সেখানেই মূর্তি প্রতিষ্ঠা করার আদেশ দিয়েছিলেন। পরে সেই আদেশমত ওই এলাকায় গড়ে ওঠে আস্ত মন্দির। কিন্তু সময়ের সঙ্গে আজ তা ক্ষয়িষ্ণু। এই অবস্থায় পুজোর জৌলুশ ধরে রাখার জন্য ও অতীতকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য অর্থের প্রয়োজন বোধ করছে পরিবার। এমতাবস্থায় তাঁদের আবেদন যদি, মুখ্যমন্ত্রীর তরফে পুজো উপলক্ষ্যে আর্থিক সাহায্য মিলত, তাহলে ইতিহাস বাঁচিয়ে রাখতে পারতেন তাঁরা।