স্পোর্টস রিপোর্টার : পাঞ্জাব এফসির কাছে আইএফএ শিল্ড ম্যাচে ১-০ গোলে হেরে গেলো ইস্টবেঙ্গল। এদিন ম্যাচের ১৮ মিনিটে একটুর জন্য গোল পায়নি পাঞ্জাব। শুরু থেকেই ম্যাচে লাল হলুদের উপর আক্রমণ চালায় পাঞ্জাব। ম্যাচের ১৮ মিনিটে বাঁ প্রান্ত থেকে বক্সে ঢুকে মাইনাস রেখেছিলেন মেসি। ইস্টবেঙ্গল ডিফেন্ডারদের এড়িয়ে বল পেয়ে শট নেন বিশু শর্মা। তবে সাইড নেটে লাগে পাঞ্জাবের এই অ্যাটাকারের শট। ২১ মিনিটে বড় সুযোগ ইস্টবেঙ্গলের ডান প্রান্ত থেকে আক্রমণে উঠে বক্সে দারুণ ক্রস রাখেন ইস্টবেঙ্গলের ইকনোমিডিস। পাঞ্জাবের ডিফেন্ডার লুংডিমকে টপকে হেড দেন রোহিত দানু। তবে গোলে ছিল না বল। বল দখলের লড়াইয়ে মাটিতে পড়ে যান রোহিত ও লুংডিম। প্রাথমিক চিকিৎসার পরে খেলায় ফেরেন তাঁরা।৩৭ মিনিটে ফ্রি-কিক পেয়েও সুযোগ নষ্ট পাঞ্জাবের কাউন্টার অ্যাটাকে উঠেছিল পাঞ্জাব। ডান প্রান্তে বল পান কিপজেন। স্কিলের ঝলক দেখিয়ে বক্সে ঢোকার জায়গা খুঁজছিলেন। তাঁকে ফাউল করে বসেন ইস্টবেঙ্গলের এক প্লেয়ার। ফ্রি-কিক পায় পাঞ্জাব। তবে মেসির শট লক্ষ্যে ছিল না। ৪১ মিনিটে এগিয়ে যায়।
পাঞ্জাব পাঞ্জাবের হয়ে আক্রমণে উঠেছিলেন আলফ্রেড। ঠিক ভাবে বল ক্লিয়ার করতে পারেননি লালচেংনুঙ্গা। বল গিয়ে পড়ে মেসি বাউলির পায়ে। বক্সের ডান প্রান্ত থেকে ক্রস রাখেন মেসি। অরক্ষিত অবস্থায় সেই বল পেয়ে জোরালো শটে গোল করেন দিয়েগো রাপোসোপাঞ্জাবের বক্সের ঠিক বাইরে ফ্রি-কিক পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গল। তবে ক্রিসের শট ধাক্কা খায় পাঞ্জাবের প্লেয়ারদের গড়া ওয়ালে। প্রথমার্ধ ফলাফল ১-০ ছিল। সেকেন্ড হাফে সেভাবে আক্রমণ গড়ে ওঠেনি।৫৩ মিনিটে প্রথম পরিবর্তন করল ইস্টবেঙ্গল। রোহিত দানুকে তুলে পিভি বিষ্ণুকে নামালেন হাবাস। ম্যাচে ফিরতে ‘ফ্রেশ লেগ’ কাজে লাগানোর চেষ্টা ছিল লাল-হলুদ কোচের। কিন্তু তাতে বিশেষ লাভ হল না। ৬০ মিনিটে ফের আক্রমণে উঠল পাঞ্জাব। ফের সুযোগ তৈরি করলেন মেসি বউলি। এর পরেই দুই দলই জোড়া পরিবর্তন করে।
পাঞ্জাবের হয়ে মাঠে নামলেন মহম্মদ সুহেল ও বিশাল যাদব, ইস্টবেঙ্গলের জার্সিতে নামলেন জিকসন সিং ও বিপিন সিং। ৮৩ মিনিটে মেসি বউলি ও সুহেলের বোঝাপড়ায় ফের ইস্টবেঙ্গল রক্ষণে চাপ তৈরি হয়। গোলের কাছাকাছি পৌঁছেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি পাঞ্জাব।শেষ ১০ মিনিটে আরও জমে ওঠে ম্যাচ। ৯০ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে বাঁক খাওয়ানো দুর্দান্ত শট নেন বিপিন সিং। গোলের দিকেই ছিল শট। বিপদ সামলান পাঞ্জাবের গোলকিপার অর্শদীপ সিং। ৯০+২ মিনিটে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন পাঞ্জাবের নিখিল প্রভু। রেনিয়ার ফার্নান্দেজকে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন তিনি। ফলে শেষ মুহূর্তে ১০ জনের পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে সমতা ফেরানোর সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। ৯০+৪ মিনিটে বিষ্ণুর ক্রস থেকে জোরালো হেড করেন বিলাল। কিন্তু ফের অর্শদীপের দুর্দান্ত সেভ। শেষ পর্যন্ত ১০ জনের পাঞ্জাবকে পেয়েও সমতা ফেরাতে পারল না লাল-হলুদ। শোনা যাচ্ছে ইস্টবেঙ্গলকে দু’টি পটে রেখে লটারি হবে। শিল্ড সেমিফাইনালে উঠেছে মোহনবাগান, নর্থইস্ট ইউনাইটেড, পাঞ্জাব এফসি এবং ইস্টবেঙ্গল। ফলে শেষ চারের লড়াইয়ে মোহনবাগানের সামনে পড়তেই পারে ইস্টবেঙ্গল। ২ অক্টোবর ডার্বি হতে পারে।